বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন

শরৎ উৎসব, ৭ মাস পর মুখর শিল্পকলা শুরুর দিনেই তিন নাটক মঞ্চায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : সাত মাস পাঁচ দিন পর আলোয় উদ্ভাসিত হলো নাটক ও সংস্কৃতিচর্চার মঞ্চগুলো। খুলল রাজধানীর সংস্কৃতিচর্চার সূতিকাগার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। নাট্যকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে গতকাল শুক্রবার খুলে দেওয়া হয়েছে একাডেমির সব মিলনায়তন।

খুলে দেওয়ার প্রথম দিনেই জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তন, পরীক্ষণ থিয়েটার হল ও স্টুডিও থিয়েটার হল পেয়েছে প্রাণ। তিনটি মিলনায়তনেই ছিল নাটক। নাট্যকর্মীদের সংলাপ আর অভিনয়শৈলীর নান্দনিক আবহে মেতে ওঠে মিলনায়তনগুলো। আর সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে ছিল শরৎ উৎসব। উৎসবের রঙে প্রাণের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে একাডেমি প্রাঙ্গণজুড়ে।

হেমন্তে এসেও শরতের বৃষ্টি মঞ্চে নাটক দেখা ও অনুষ্ঠান উপভোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ছুটির দিনে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে আসে আনন্দের ফল্গুধারা। শিল্পী ও দর্শকের কোলাহলে মুখর হয়ে ওঠে ছুটির দিনের সন্ধ্যাটি।

সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় পালাকারের নাটক ‘উজানে মৃত্যু’। সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর উপন্যাস অবলম্বনে নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন শামীম সাগর। পরীক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয় জাগরণী থিয়েটার প্রযোজিত নাটক ‘রাজার চিঠি’।

রবীন্দ্রনাথের শাহজাদপুরের স্মৃতিধন্য কাহিনি নিয়ে নাটকটি রচনা করেছেন মাহফুজা হিলালী, আর নির্দেশনা দিয়েছেন দেবাশীষ ঘোষ। স্টুডিও থিয়েটার হলে শুরু হয়েছে খেয়ালী নাট্যগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা এ কে এ কবীরের স্মরণে দুই দিনব্যাপী স্মরণানুষ্ঠান। দলের নিজস্ব প্রযোজনার নাটক ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’, মৈত্রী থিয়েটারের ‘চা অথবা কফি’, উৎস নাট্যদলের ‘পতাকায় বঙ্গবন্ধু’—এই তিনটি নাটকের অংশবিশেষসহ এই উৎসবে আরো থাকছে গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণা।

বিকেলে নাচ, গান, আবৃত্তিসহ নানা আয়োজনে একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে শরৎ উৎসবের আয়োজন করে সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠী। অসিত বিশ্বাসের এস্রাজ বাদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শরত নিয়ে হেমন্তকালের এই আয়োজন। দেশাত্মবোধক, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, রজনীকান্ত ও দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গান, যন্ত্রসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য দিয়ে সাজানো ছিল শরৎ উৎসব। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। স্বাগত বক্তব্য দেন সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। সুরের মূর্ছনা, নৃত্যের ঝংকার ও আবৃত্তির দীপ্ত উচ্চারণে হৈমন্তী সন্ধ্যায়ও গোটা মিলনায়তনে মূর্ত হয়ে উঠে শারদীয় আবহ।

করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে সারা দেশে নাট্য প্রদর্শনী বন্ধ ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। আপাতত দুই দিন শুক্র ও শনিবার নাট্য প্রদর্শনী ও অনুষ্ঠান করা যাবে শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনগুলোতে। দর্শকদের টিকিট অথবা আমন্ত্রণপত্র দেখাতে হবে প্রবেশপথে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com