মঙ্গলবার, ০৭ Jul ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন
অতিমারিতে অনেক ইন্ডাস্ট্রিই ক্ষতিগ্রস্ত, তার মধ্যে বিনোদন হয়তো সবচেয়ে বেশি। একে তো সিনেমা হলে ছবি রিলিজ় এবং দর্শকের আসা নিয়ে টানাপড়েন চলছে। তার উপরে সেটে একের পর এক কলাকুশলীর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। করোনা পরিবেশে কী ভাবে শুটিং চালাচ্ছেন পরিচালকেরা? কী ধরনের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে লড়ছেন তাঁরা?
টলিউডের অন্দরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, কারও সমস্যার ধারা ক্রিয়েটিভ, কারও অর্থনৈতিক। হয়তো পরিচালক এমন একটি গল্প বলছেন, যেখানে করোনা পরিস্থিতির উল্লেখ নেই। রাস্তায় শুটের সময়ে মাস্ক পরা ব্যক্তি ফ্রেমে চলে এলেন। কেউ জমজমাট জায়গায় শট নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, কিন্তু গিয়ে দেখলেন এলাকা জনশূন্য। লোকেশন পেতেও সমস্যা হচ্ছে অনেকের। তবে মূলত বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে অর্থনৈতিক সমস্যাই।
গত এপ্রিলে ‘চিনি’ ছবিটি শুট করার কথা ছিল পরিচালক মৈনাক ভৌমিকের। কিন্তু তখনই লকডাউন ঘোষণা হয়। সেই স্থগিত হয়ে যাওয়া ছবি শুট হয় সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে। আগের চেয়ে পরিস্থিতি কতটা বদলেছে? ‘‘বেশ খানিকটা। সুরক্ষা নিয়ে সতর্ক হতে গিয়ে ক্রিয়েটিভ দিকে যাতে খামতি না থাকে, সেগুলো ভাবতে হচ্ছিল। এ ছাড়া এই ছবির জন্য যে সব ইন-ফিল্ম প্রোমোশন ছিল, নতুন শিডিউলের সময়ে তারা আর আগ্রহী হল না।’’ ছবিতে পণ্য দেখিয়ে টাকা রোজগার পরিচিত ব্যাপার। করোনা যেহেতু সব ইন্ডাস্ট্রির উপরেই থাবা বসিয়েছে, তাই এই মুহূর্তে ইন-ফিল্ম প্রচারে বিনিয়োগ করতে রাজি হচ্ছে না অনেক ব্র্যান্ড। ‘চিনি’র জন্য যে সব রেস্তরাঁ বা হোটেলে শুট করার কথা ছিল, তারাও রাজি হয়নি নিরাপত্তার কারণে। ‘‘কয়েকটি রেস্তরাঁ জানায়, তারা লোকেশন দিতে পারবে না। একটি হাসপাতালে শুট করা স্থির হয়েছিল কিন্তু পরে তারা বেঁকে বসে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে অন্য হাসপাতাল রাজি হয়,’’ বললেন পরিচালক।
বাজেট সংক্রান্ত কারণেই আটকে গিয়েছে পরিচালক অরিন্দম শীলের ‘তীরন্দাজ শবর’-এর শুটিং। ক্যামেলিয়া প্রোডাকশনের সঙ্গে যৌথ ভাবে আর এক প্রযোজক ছবিতে বিনিয়োগ করতে চাইছিলেন। কিন্তু তিনি শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানোয় ছবির কাজ শুরু করা যায়নি। খানিকটা গুছিয়ে নিয়ে কিছু দিন পরে শুটিং শুরু হবে বলে জানালেন অরিন্দম। নভেম্বরেই নতুন ছবির শুটিং করার কথা ছিল পাভেলের। কিন্তু বাজেটের কারণে সে ছবির কাজ আপাতত বন্ধ। কম বাজেটের একটি ছবির পরিকল্পনা করছেন তিনি। সব প্রযোজকই এখন বাজেট কাটের দিকে ঝুঁকছেন।