রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন

আমি নারীর জয়ে বিশ্বাসী: জয়া আহসান

আন্তর্জাতিক নারী দিবস এলে আজকাল আমার কাছে শঙ্খ ঘোষের অতিপরিচিত সেই কবিতার চরণটিই মনে ফিরে ফিরে আসে, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’। পণ্য, ভোগ আর প্রচার— এসবের আতিশয্যে এই দিনটির মহিমা যেন ঢাকাই পড়ে গেছে। কী এক উত্তাল আকাঙ্ক্ষা থেকে এই দিনটির শুরু হয়েছিল, আর কনজিউমারিজমের ধাক্কায় দিনটি আজ কোথায় এসে পড়েছে? নারী দিবসে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমনই প্রশ্ন রেখেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। তিনি লিখেছেন, যেই চেতনা থেকে এই দিনটি শুরু হয়েছিল, সেই চেতনাটি ফিরিয়ে আনা দরকার সবার আগে।

কী সেই চেতনা? ১৫ হাজার নারী সেই ১৯০৮ সালে নিউ ইয়র্কের রাজপথে নেমে এসেছিলেন। কেন? তাদের দাবি ছিল, তাদের কাজের সময়সীমাটা সহনীয় মাত্রায় নেমে আসুক। মজুরি সামান্য বাড়ুক। তাদের ভোটের অধিকার দেওয়া হোক। ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় মেয়েরা যে চারদিন ধরে ধর্মঘট করেছিল, তাদের দাবি ছিল সামান্য—‘রুটি আর শান্তি’।

ভালোমতো খেয়াল করলে দেখব, আলাদা করে এসবে কিন্তু নারীর জন্য বিশেষ কোনো দাবি নেই। এর সবটাই মানুষ হিসেবে বাঁচারই দাবি। ব্যাপারটাই তা–ই। নারীর দাবি তো আসলে মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করারই দাবি। নারীর এই দাবি সে অর্থে পুরুষের দাবিই বা হবে না কেন? পুরুষদেরও তো নিছক পুরুষ হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেই বাঁচতে হবে। তারা যদি নারীর বাঁচার দাবির অংশ থেকে বেশিটা কেড়ে নেয়, তাহলে যে মনুষ্যত্বের মধ্যেই টান পড়ে।

কিন্তু যে দাবির জন্য মেয়েরা একদিন পথে নেমেছিল, এক শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে এসেও সে দাবির কতটা পূরণ হলো তাদের? এখনো যখন পথে–প্রান্তরে কলে–কারখানায় নারী শ্রমিকদের এই একই দাবি নিয়ে আন্দোলন করতে দেখি, বিষণ্ণ হয়ে ভাবি, সভ্যতা তাহলে কত দূর এগোল? হ্যাঁ, আমাদের মতো সমাজের একটি অংশের কাছে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে, এসেছে কিছুটা আরাম। বড় একটা অংশ তো পড়ে আছে বিভেদের দুর্ভাগ্যজনক একটা রেখার তলায়। ওঁদের বাঁচার দাবি এখনো অপূর্ণ। এ জন্য বলতে চাই উদ্যাপনের চাকচিক্যে যেন নারী দিবসের চেতনাটা আমরা হারিয়ে না ফেলি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com