রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

চমৎকার জাহ্নবী, জমল না ছবি

তিন বছর আগে ‘স্ত্রী’ ছবি দিয়ে বলিউডে হরর-কমেডি জ়ঁরটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল দীনেশ ভিজানের প্রযোজনা সংস্থা। সেই সংস্থার দ্বিতীয় হরর কমেডি ‘রুহি’। আগেরটির মতো এই ছবিরও মুখ্য চরিত্রে রাজকুমার রাও। ছবির পরিচালক হার্দিক মেহতা, যিনি ওয়েব সিরিজ় ‘পাতাললোক’ , ‘ট্র্যাপড’-এর মতো ছবির চিত্রনাট্যে সহ-লেখক ছিলেন। হরর কমেডির সাফল্য নির্ভর করে তার লেখনীর উপরে। তবে ‘রুহি’র গল্প ও চিত্রনাট্য এর মূল খামতির জায়গা। হরর এবং কমেডির মেলবন্ধনও পোক্ত নয়।

ছবিটি শুরু হয় ভঁওরা (রাজকুমার রাও) এবং কটন্নিকে (বরুণ শর্মা) দিয়ে। এক বিদেশি তথ্যচিত্র নির্মাতার ক্যামেরায় বন্দি হচ্ছে ‘বধূ অপহরণ’, যা খানিক রেওয়াজের মতো দেশের এক প্রত্যন্ত কাল্পনিক শহরে। পাত্রের নজর পড়লে সেই মেয়েকে অপহরণ করে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেওয়া হয়। পাত্রের পরিবার সেই বিয়ে দেয় ধুমধাম করে। কিন্তু বিয়ের রাতে কনের উপরে ভর করতে পারে এক ডাইনি, যার লক্ষ্য বিয়ে করা। রুহি (জাহ্নবী কপূর) এমনই এক বিবাহযোগ্যা নারী, যাকে মালিক গুজিয়ার (মানব ভিজ) কথামতো অপহরণ করে ভঁওরা ও কটন্নি। কিন্তু অনিবার্য কারণে সেই বিয়ে পিছিয়ে যায়। তখন এক পোড়ো বাড়িতে বন্দি করে রাখতে হয় রুহিকে। তার পরে শুরু হয় ডাইনির নৃত্য।

ছবিতে এমন একটিও দৃশ্য নেই, যেখানে বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠবে। ছবির প্রথম অন্তরায় সেখানে। হরর কমেডির সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি সংলাপে হাসি পাবে, তবে বেশির ভাগেই না। ছবিতে বলতে চাওয়া হয়েছে অনেক কিছু। যেমন, বিয়ের মতো পিতৃতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ডাইনি-পিশাচ তাড়ানো যে দেশের ছোট শহরে রীতিমতো ব্যবসার মতো রমরমিয়ে চলে, সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হয়েছে। বিয়েতেই যে নারীর মোক্ষ নয়, সেই নারীবাদী বার্তা দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ছবির ক্লাইম্যাক্স ও শেষ বেশ হতাশাজনক। অর্থাৎ অনেক কিছু বলতে গিয়ে শেষটা যেন জোর করে মিলিয়ে দেওয়ার মতো।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com