রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন
আশি-নব্বইয়ের দশকের বম্বে, ধুন্ধুমার অ্যাকশন, তুখোড় ওয়ানলাইনার… বম্বে থেকে মুম্বই হয়ে ওঠার গল্প জমজমাট। কিন্তু গল্পের ভিত পোক্ত নয়। মুম্বইয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমান্তরালে চলা আন্ডারওয়র্ল্ডের গল্প এই ছবির উপজীব্য। কিন্তু এ গল্প বলিউডে নতুন নয়। সঞ্জয় গুপ্তর লেখা ‘শুটআউট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা’ বা ‘শুটআউট অ্যাট ওয়াডালা’র চিত্রনাট্য অনেক মজবুত ছিল। জমজমাট অ্যাকশন ও অভিনয়গুণে ‘মুম্বই সাগা’ উতরে গেলেও গল্পের বুনটে রয়ে গেল ত্রুটি।
একটি সাধারণ ছেলে অমর্ত্য রাওয়ের (জন আব্রাহাম) গ্যাংস্টার হয়ে ওঠার গল্পকে কেন্দ্র করেই ছবি আবর্তিত হয়।তোলা দেবে না বলে অমর্ত্য একাই লড়ে যায় এলাকারা তোলাবাজ গায়তোণ্ডের (অমোল গুপ্তে) গুন্ডাদলের সঙ্গে। গায়তোণ্ডেকে শায়েস্তা করায় সে নজরে পড়ে মুম্বইয়ের রাজা ‘ভাউ’য়ের (মহেশ মঞ্জরেকর)। অমর্ত্য হয়ে ওঠে ‘ভাউ’য়ের ডান হাত। চেনা গল্প রং বদলায় ছবির চরিত্রায়ণ ও অভিনয়গুণে।
ছবিতে আশি-নব্বইয়ের দশকের বম্বে তুলে ধরা হয়েছে, যখন মরাঠি ভাবাবেগে পরিপূর্ণ ‘আখখা মুম্বই’। একের পর এক কারখানা বন্ধ হচ্ছে, বম্বে হয়ে উঠছে মুম্বা দেবীর ‘মুম্বই’। সত্যি ঘটনা অবলম্বনে লেখা চিত্রনাট্যে ‘ভাউ’কে দেখলে বুঝতে অসুবিধে হয় না কার আদলে এই চরিত্রনির্মাণ। তা আরও স্পষ্ট করেছে পিছনে উড্ডীয়মান পতাকার রং। যোগ্য সঙ্গত করেছে মহেশের সংলাপ ‘মরাঠিকো জো টোকেগা, মরাঠি উসকো ঠোকেগা।’ ভাউকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছেন মহেশ। অসাধারণ অমোল গুপ্তেও। গায়তোণ্ডের চরিত্রে ঠান্ডা মাথায় হাসতে-হাসতে ঢিমে স্বরে কথা বলা অমোল এ ছবির অন্যতম প্রাপ্তি।