রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন
নতুন প্রযুক্তি, উন্মুক্ত বাজার, সিনেমার মান ও পরিমাণ সব মিলিয়ে ধুঁকছিল ঢালিউড। করোনা মহামারীর কারণে সেই অবস্থার আরও অবনতি হয়। এই সময়ে সর্বোচ্চসংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল স্ফুলিঙ্গ। বাংলা সিনেমার জন্য এটি অত্যন্ত ইতিবাচক ঘটনা। করোনাকালীন যেসব সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, সেগুলোর কোনোটি ২৫-এর বেশি সিনেমা হলে মুক্তি পায়নি। তবে তৌকীর আহমেদের নতুন সিনেমা ‘স্ফুলিঙ্গ’ মুক্তি পেয়েছে রাজধানীসহ দেশের ৩৫টি সিনেমা হলে। সিনেমাটির পরিবেশক অভি কথাচিত্রের কর্ণধার অভি বলেন, ‘করোনাকালীন চালু আছে ৫০টির মতো সিনেমা হল। এর মধ্যে ৩৫টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে স্ফুলিঙ্গ। সে হিসাবে স্ফুলিঙ্গ সর্বোচ্চ সিনেমা হল পেয়েছে।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই মূলত সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৌকীর আহমেদ। স্ফুলিঙ্গ তরুণ একটি গানের দলের কাহিনী। নেপথ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শিল্পসুচে গেঁথেছেন নির্মাতা। বর্তমান তারুণ্যের সংকটকে যুদ্ধদিনের তারুণ্যের সংগ্রামের সঙ্গে মিলিয়ে যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন। ছবিটি মুক্তির আগেই দুটি গান অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দর্শকপ্রীতি কুড়িয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্যামল মওলা। এ নিয়ে ভীষণ রোমাঞ্চিত এই অভিনেতা। সম্প্রতি টিভি এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোয় তার বেশ কিছু কাজ তরুণদের কাছে তাকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। এই সিনেমার মাধ্যমে এক রোমান্টিক ভাবমূর্তি নিয়ে পর্দায় এসেছেন তিনি। শ্যামল মওলা বলেন, ‘ছবিটিতে অভিনয় করে বেশ আনন্দ পেয়েছি। আমার বিশ^াস, ছবিটি দেখে দর্শকও আনন্দ পাবেন।’ জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মমর চরিত্রটিও এ ছবিতে বেশ ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘কেবল এই চরিত্র নয়, দর্শকের সামনে যেকোনো ভূমিকায় হাজির হওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত। এটা মুক্তিযুদ্ধের ছবি, এটা করতে পেরে আমি মনে করি, একটি দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। তা ছাড়া তৌকীর আহমেদের মতো নির্মাতার সঙ্গে কাজের সুযোগ পাওয়াটা আমার জন্য গর্বের।’
গত বুধবার সন্ধ্যায় ছিল ছবিটির প্রিমিয়ার শো। উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন ছবির পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী ও বিনোদন অঙ্গনের সুধীজনরা। উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকতে না পেরে নিজের আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ছবির অন্যতম অভিনয়শিল্পী পরীমনি। কলকাতা থেকে তিনি বলেন, ‘ভীষণ ইচ্ছে ছিল প্রিমিয়ার শোতে থাকার। পাখি হলে ঠিক সন্ধ্যার আগে আগে উড়াল দিতাম আমি। কোনো কিছুই আমাকে বেঁধে রাখতে পারত না। ডানা ঝাপটে টুপ করে হাজির হতাম স্ফুলিঙ্গের প্রিমিয়ারে! একসঙ্গে সবাই মিলে দেখতাম আমাদের স্ফুলিঙ্গ টিমের এত মায়া, এত যতেœ বানানো গল্পটা।’ স্ফুলিঙ্গ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ, শহীদুল আলম সাচ্চু, রওনক হাসান, হাসনাত রিপন, পিন্টু ঘোষ প্রমুখ।
তৌকীর আহমেদ এর আগে পরিচালনা করেছেন জয়যাত্রা, রূপকথার গল্প, দারুচিনি দ্বীপ, অজ্ঞাতনামা, হালদা ও ফাগুন হাওয়ায় ছবিগুলো। উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে নিজের ছবির সব কলাকুশলীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ছবিটি আমি একা বানাইনি। ছবি একা বানানো যায় না। দল বেঁধে কাজ করে ছবি বানাতে হয়। তাই প্রডাকশন বয় থেকে শুরু করে মিউজিক ডিরেক্টরসবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’