বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ন
রোববার (১৩ জুন) রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল আধুনিকায়নসহ চালু, বদলি শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধসহ ৬ দফা দাবিতে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন(বিজেএমসি) ও পাট মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে করিম ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা।
সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ স্মারকলিপি পেশের কার্যক্রম।
সমাবেশে পাটকল শ্রমিক নেতারা বলেন, “করোনা মহামারির মধ্যে গত বছর ২০২০ সালের ২ জুলাই রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকলে উৎপাদন বন্ধের নোটিশ টাঙ্গানো হয়। এর ফলে স্থায়ী, বদলি ও দৈনিকভিত্তিক মিলিয়ে এক ধাক্কায় প্রায় ৫৭ হাজার শ্রমিকের কর্মক্ষম হাতকে বেকারের হাতে পরিণত করা হয়েছে। শুধু শ্রমিক নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাটচাষি-পাটশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানদার ও তাদের পরিবারসহ লক্ষ লক্ষ মানুষ। সরকারী পাটকল বন্ধের সময় বলা হয়েছিল – ৩ মাসের মধ্যে শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকজনিত ক্ষতিপূরণসহ সকল পাওনা মিটিয়ে দিয়ে পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা হবে। কিন্তু ১ বছর হতে চললেও এখনো সমস্ত স্থায়ী শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ হয়নি। বদলি শ্রমিকদের পাওনা দেয়া এখনো শুরুই করা হয়নি। করোনা মহামারীজনিত লকডাউনের মধ্যে বিকল্প কাজ ও আয়ের অভাবে এই শ্রমিকদের দুর্দশা বর্ণনাতীত। পাওনার টাকাটুকু হাতে পেলে এই অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে তাঁরা কোনমতে চলতে পারতেন।”
বক্তারা আরও বলেন, “১ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় মিলগুলোর যন্ত্রপাতি অচল-নষ্ট, জমে থাকা কাঁচামাল-উৎপাদিত পণ্য লুটপাট এবং জায়গা-জমি বেদখল হওয়ার আশংকা বাড়ছে। শোনা যাচ্ছে সরকার রাষ্ট্রীয পাটকলগুলো ব্যক্তিমালিকদের কাছে লীজ দেওয়ার চেষ্টা করছে। অতীতে পাটকলগুলোর বেসরকারিকরণের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। বেসরকারীকরণের নামে সস্তায় জমি ও যন্ত্রপাতি লুটপাট করা, বিশাল জমি দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ নেয়া, খন্ড খন্ড বিক্রি করে আবাসন ব্যবসার দৃষ্টান্তই আমরা দেখেছি। বন্ধ করা ২৫টি সরকারী পাটকলে ১২০০ একর জমি, কারখানার অবকাঠামো, গোডাউন, যন্ত্রপাতি আছে। মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২৫ হাজার কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারীকরণের নামে জনগণের সম্পদ লুটপাটের আয়োজন করা হচ্ছে কি না – সে আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে।”
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণআন্দোলনে পাটকল শ্রমিকদের উল্লেখযোগ্য সংগ্রামী ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, “বর্তমান সরকার পাটের জিনোম সিকোয়েন্স আবিষ্কারের কৃতিত্ব দাবি করে পরিবেশবান্ধব পাটখাত পুনর্জাগরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এসব স্মরণে রেখে ঐতিহ্যবাহী পাটশিল্প ও পাটকলশ্রমিকদের রক্ষায় ৬ দফা দাবি পূরণে আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে যাবতীয় পাওনা পরিশোধসহ শ্রমিকদের বাঁচার দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।”
শ্রমিকনেতা মোহাম্মদ গোফরানের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জহিরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য ফখ্রুদ্দিন কবির আতিক, করিম জুট মিলের শ্রমিকনেতা জাফর উল্লাহ, এরশাদ-উজ-জামান, লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের শ্রমিকনেতা মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, মোস্তফা কামাল প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন অভিমুখে যায় এবং সেখানে একটি প্রতিনিধি দল বিজেএমসি চেয়ারম্যান আবদুর রউফের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন। পাটকল করপোরেশনের সামনে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাওয়ানী জুট মিলের শ্রমিকনেতা গোলাম মাওলা বাহার, করিম জুট মিলের হাসি বেগম, জাফর উল্লাহ, শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রাজু আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা, শ্রমিকনেতা তসলিমা আক্তার, ভজন বিশ্বাস প্রমুখ। পরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি পেশ করা হয়।