শনিবার, ০৪ Jul ২০২৬, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন
জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মীম সর্বশেষ গত বছর রায়হান রাফির ‘দামাল’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হন। সেই ছবির পর বেশ লম্বা সময় আর কোনো সিনেমায় নিজেকে যুক্ত করেননি। এর মধ্যে নিয়মিত কাজ করেছেন বিজ্ঞাপনচিত্রে। দু-একটি নাটকেও দেখা গেছে তাকে। তবে গত ২০ জুন নতুন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হলেন এই গ্ল্যামারাস তারকা। ‘ঢাকা অ্যাটাক’খ্যাত নির্মাতা দীপংকর দীপনের নতুন সিনেমা ‘অন্তর্জাল’-এ আগেই যুক্ত হয়েছেন জনপ্রিয় দুই তারকা সিয়াম আহমেদ ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। এবার যুক্ত হলেন বিদ্যা সিনহা মীম। দেশের প্রথম সাইবার থ্রিলার ঘরানার এ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মীম। দীপংকর দীপন বলেন, ‘মীমকে দেখা যাবে সাইবার রেসপন্ডার হিসেবে।’ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী মীম জানান, ‘প্রযুক্তি খাত ও সাইবার দুনিয়ায় নারীদের এগিয়ে আসতে অনুপ্রেরণা জোগাতে সিনেমাটি নির্মিত হচ্ছে। এমন একটি উদ্যোগের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পেরে আমি গর্বিত। সিনেমাতে আমি কাজ করার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত। তা ছাড়া দীপন দা’র সঙ্গে কাজের আগ্রহ অনেক দিনের। সেই ইচ্ছাও পূরণ হতে যাচ্ছে।’
‘অন্তর্জাল’ সিনেমায় যুক্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন মীম, ‘একটি দেশ যখন সাইবার অ্যাটাকের মুখে পড়ে তখন সে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনগোষ্ঠী মিলে দেশকে রক্ষা করে। ‘অন্তর্জাল’-এ আমি দেশকে রক্ষার যুদ্ধে নামব সার্টের সাইবার সিকিউরিট স্পেশালিস্ট হিসেবে। বাংলাদেশের খুব কম মানুষই সার্ট বিষয়ে জানেন। চরিত্রটির মাধ্যমে সার্ট বিষয়ে দেশের মানুষকে জানাতে পারব এবং সাইবার সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখব। এটি হচ্ছে যুক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ।’
শিগগির সিনেমাটির শ্যুটিং শুরু হবে বলে জানান নির্মাতা। ‘অন্তর্জাল’-এর গল্প লিখেছেন দীপংকর দীপন, সাইফুল্লাহ রিয়াদ ও আশা জাহিদ। সরকারের আইসিটি ডিভিশনের উদ্যোগে নির্মিতব্য এই সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মোশন পিপল স্টুডিও। সার্বিক সহযোগিতায় স্পেলবাউন্ড লিও বার্নেট।
পরপর দুই সিনেমায় মীম নায়ক হিসেবে পেলেন সিয়ামকে। আবার দুটি সিনেমাই তারকাবহুল। এ প্রসঙ্গে মীম বলেন, ‘সিয়ামের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই পরিচয়। কিন্তু একসঙ্গে কাজ হয়েছে দেরিতে। রায়হান রাফি আমাদের প্রথম চুক্তিবদ্ধ করেন ‘ইত্তেফাক’ সিনেমায়। এরপর একই পরিচালকের ‘দামাল’ সিনেমায় কাজ করেছি। এবার করব ‘অন্তর্জাল’। তার সঙ্গে কাজ করা সব সময়ই আনন্দের। দারুণ মজা করে কাজ করি আমরা। যদিও আমাদেরকে এখনো একসঙ্গে পর্দায় অভিনয় করতে দেখেননি দর্শক। কিন্তু কাজ করার সময়ই মনে হয়েছে দর্শকের পছন্দ হবে। আর মাল্টি স্টার কাস্ট নিয়ে বলব-এখন সিনেমার ভাষা বদলে গেছে। প্রতিটি চরিত্রই সিনেমার হিরো। আমি সিনেমা নির্বাচন করি পুরো গল্পটা দেখে। এরপর পরিচালক ও বাজেটের বিষয়টি মাথায় রাখি। এসব ঠিক থাকলে আর নিজের চরিত্রটি ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারলে যত তারকাই থাক না কেন, দর্শক তাদের মধ্য থেকে আমাকে ঠিকই মনে জায়গা দেবেন। এ জন্য অতকিছু না ভেবে নিজের কাজের প্রতি বেশি ফোকাস করি। এর আগে ‘সাপলুডু’ সিনেমাটি করেছি। সেখানেও ছিল অনেক তারকার মেলা। আমার চরিত্রটির দৈর্ঘ্য যাই থাকুক, দর্শক ঠিকই প্রশংসা করেছেন। ফলে এসব নিয়ে আমি একদমই বিচলিত নই।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক চলচ্চিত্রে অনেক চরিত্রে অভিনয় করেছি। কিন্তু এ চরিত্রটির মতো কোনো চরিত্র আমার ক্যারিয়ারে নেই। সত্যি বলতে এ ধরনের গল্প ও চরিত্র বাংলা সিনেমায় আগে মনে হয় আসেওনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমি এ ছবিতে কাজ করতে পেরে আনন্দিত। সাইবার দুনিয়ার পরিসর অনেক বড়। এ চলচ্চিত্রের প্রথম দিকে আমি সাইবার দুনিয়ার কিছু বিষয় জেনে চমকে গিয়েছিলাম। ছবিটিতে দীপন দা আমাকে পুরোপুরি একটা রহস্যের মধ্যে ছেড়ে দেবেন। গন্তব্য আমাকেই খুঁজে বের করতে হবে, না হলে সাইবার আক্রমণের অনেক ঝুঁকি তৈরি হবে।’