শনিবার, ০৪ Jul ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

লম্বা রেসে শ্যামল মাওলা

বাবা ছিলেন থিয়েটারকর্মী। নিজেও শিশু থিয়েটার দিয়ে শুরু করেছিলেন। এরপর বড়দের নাটকের দলে সম্পৃক্ততা। টিভি নাটকেও হাঁটি হাঁটি পা পা করে এক দশক হয়ে গেছে। শুরু থেকেই নির্দিষ্ট ধরনের দর্শকের পছন্দের পাত্র হয়ে ওঠেন। কিন্তু গত দুই বছরে দেশে ওয়েব কনটেন্টের যে নতুন জোয়ার শুরু হয়েছে তাতে নিজেকে নতুন মাত্রায় উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। শোবিজের অনেকেই মজা করে বলে থাকেন, এখন দেশের কোনো ওয়েব কনটেন্ট মানেই এই অভিনেতার চরিত্র বরাদ্দ! পাঠক এতক্ষণে বুঝে গেছেন কার কথা বলা হচ্ছে। তিনি এ সময়ের অন্যতম মেধাবী অভিনেতা শ্যামল মাওলা। তার সাম্প্রতিক কাজের দিকে খেয়াল করলে দর্শক সহজেই বুঝতে পারবেন তিনি হতে চলেছেন লম্বা রেসের ঘোড়া। সদ্য মুুক্তি পাওয়া ‘হইচই’-এর ওয়েব সিরিজ মহানগর, কিংবা এর আগে জি ফাইভের কনট্রাক্ট, মাইনকার চিপায়, হইচইয়ের মানিহানি, কষ্টনীড় প্রতিটি চরিত্রে তিনি দর্শককে মাতিয়ে রেখেছেন। আসছে ঈদুল আজহায়ও দারুণ কিছু কাজ নিয়ে হাজির হবেন শ্যামল। তিনি দেশ রূপান্তরকে বললেন, ‘মহানগরের পর আসছে ঈদেও আমার কয়েকটি কাজ নিয়ে দারুণ আশাবাদী। জনপ্রিয় নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ানের ১০ মিনিটের শর্টফিল্ম ‘সময়’-এর কথা বলতে চাই। এটি এমন একটি গল্প, আমার মনে হয় সব ছেলের এটা ভালো লাগতে বাধ্য। একটি বাবার গল্প এটি। সহজেই সবাই এই গল্পের আবেগের সঙ্গে নিজের আবেগকে মেলাতে পারবে। প্রথমে টিভিতে, এরপর ইউটিউবে মুক্তি পাবে শর্টফিল্মটি। অল্প সময়ের কাজ বলে যেকেউ সহজেই এটি দেখে ফেলতে পারবে। তাই এটি অন্যরকম সাড়া ফেলবে বলে আমার বিশ্বাস।’

গতকালই মেধাবী নির্মাতা মাহমুদ দিদার তার নতুন ওয়েব সিরিজের পোস্টার শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বিঞ্জের জন্য নির্মিত এই সিরিজের নাম ‘২৫’। এখাইের মুখ্য চরিত্রে আছেন শ্যামল মাওলা। আরও অভিনয় করেছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল, ইয়াশ রোহান, সাঈদ বাবু প্রমুখ। এই সিরিজ নিয়ে শ্যামল মাওলা বলেন, ‘২৫ ওয়েব সিরিজটি নিয়েও আমি খুব আশাবাদী। কারণ, এর গল্প ও নির্মাণশৈলী সত্যিই অন্যরকম।’

এ ছাড়া তিনি কাজ করেছেন গুণী অভিনেত্রী সানজিদা প্রীতির বিপরীতে মেধাবী নির্মাতা সুমন আনোয়ারের টিভি নাটক ‘ইন দ্য মুড ফর লাভ’ ও জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূজা চেরীর সঙ্গে সুমন ধরের ওয়েব সিরিজ ‘প্যারাসাইকোলজি’তে। প্রতিটি কাজেই নতুন নতুন চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরবেন শ্যামল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাড়িতে শিল্পচর্চার পরিবেশ ছিল বরাবরই। শিশু থিয়েটার দিয়ে নিজেকে অভিনেতা হিসেবে প্রথম আবিষ্কার করি। বড় হয়ে যখন আবার থিয়েটারে এলাম, খেয়াল করলাম যে কর্মশালাগুলো করানো হচ্ছে সেগুলো আগে থেকেই আমি জানি। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতাম। এসব কারণে থিয়েটারে সমসাময়িকদের থেকে এগিয়েই ছিলাম। কিন্তু অভিনেতাই হব সেটা ভাবিনি। তবে সব সময় আমি মানুষকে দেখতে থাকতাম, এখনো দেখি। মানুষের চলা বলা, ধরন ধারণ অবজারভেশন করা আমার একটা অভ্যাস। এসব কারণেই হয়ত পরবর্তীকালে অভিনেতা হয়ে উঠেছি। এখনো শ্যুটিং না থাকলে এগুলো নিয়েই থাকি। এজন্য আমার স্ত্রী অনেক সময় বিরক্ত হয়। কিন্তু আমি এ থেকে বের হতে পারি না। অভিনেতার জন্য এই নতুন অনুভূতি, নতুন অভিব্যক্তি খুঁজে ফেরার বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্যই হয়ত একটি চরিত্র পেলে সেটাকে আরেকটি থেকে একটু হলেও ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারি।’

‘মহানগর’ ওয়েব সিরিজে সবার মতো শ্যামল মাওলাও প্রশংসা পাচ্ছেন। তবে এই সিরিজটি তাকে অন্য এক কারণেও অন্যরকম আনন্দ দিয়েছে। শোনা যাক তার মুখেই, ‘অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন আমার নাটকের দল দেশ নাটকের সিনিয়র বড় ভাই। তার কাছ থেকে অভিনয়বিষয়ক নানা ধরনের টিপস নিয়ে থাকি। তিনি আমার অভিনয়ের দুর্বলতা ও স্ট্রেন্থ দুটোই জানেন। তার কাছ থেকে এতদিন আমার কাজের অনেক মূল্যায়ন পেয়েছি। প্রতিটিতেই কোনো না কোনো খুঁত ছিল। কিন্তু মহানগর দেখার পর তিনি কোনো খামতি পাননি। এটা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। এই চর্চাটাই চালিয়ে যেতে চাই।’

তারকাখ্যাতির দিক থেকে শ্যামল মাওলা এখনো বেশ আন্ডাররেটেড, এটা অনেকেই মনে করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অভিনয় ভালো করা না করা আমার হাতে আছে। কিন্তু অন্য লোকের চিন্তা-ভাবনার ওপর আমার হাত নেই। তা ছাড়া খ্যাতি বাড়ানোর জন্য বাড়তি কোনো কিছু করার মানসিকতা আমার নেই। এক একটা মানুষ তো এক এক রকম হয়। আমি নিজেই একজন ডুব দেওয়া মানুষ। তাই আমার কাজগুলোও সেভাবে প্রকাশ পায়। তারকাখ্যাতি নিয়ে আমি ভাবি না। কাজটাই মন দিয়ে করতে চাই।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com