শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
আমাদের দেশের শোবিজের কাজের যে ধরন তার সব সীমাবদ্ধতা জয় করে ৭৯ বছর বয়সেও সমানতালে কাজ করছেন বিখ্যাত অভিনেত্রী দিলারা জামান। দীর্ঘদিন টিভি নাটকে দর্শক মাতিয়েছেন। এরপর চলচ্চিত্রের ঝুলিও লম্বা করেছেন। এবার এসেছেন ওয়েবের দুনিয়ায়। এরই মধ্যে দুটি ওয়েব সিরিজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওয়েবে কেবল কাজ শুরু করলাম। জাকারিয়া সৌখিনের একটি ওয়েব সিরিজ করেছি। দেশীয় একটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে। নাম ঠিক হয়নি এখনো। খুব ধরে ধরে কাজ করেছে সে। একদিন তো কাজ শেষ করতে রাত তিনটা বেজে গেছে। বেশ রাগ হয়েছিল। কিন্তু কী করব? কাজটা তো শেষ করে আসতে হবে। আমি সাধারণত রাত ১০টার মধ্যে শ্যুটিং শেষ করে বাসায় ফিরি। এই বয়সে নিজেকে একটা পরিশীলিত জীবনধারায় বেঁধে ফেলতে হয়। সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা যে এখনো সুস্থ আছি। সবাই দোয়া করবেন যেন ভালো থাকি।’
এখন সময় কীভাবে কাটছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব ভয়ে থাকি আজকাল। একাত্তরে পাকিস্তানিদের ভয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছি। তখন বয়স কম ছিল, তা ছাড়া শত্রুকে দেখতে পেতাম চোখে। আর এখন এক অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে এই বয়সে এসে। যে বাসায় থাকি সেখান থেকে মুক্ত বাতাস পর্যন্ত গায়ে লাগে না। চারদিকে বড় বড় বিল্ডিং উঠে আকাশও দেখতে পাই না। তাই শ্যুটিং করি এখনো। শ্যুটিংয়ে গেলে সবার সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়, বেশ ভালো লাগে। কিন্তু করোনার ভয়ে এখন আরাম করে কাজও করতে পারি না।’
করোনা পরিস্থিতিতে কম কাজ করলেও এবার ঈদে দিলারা জামানের যে অর্ধডজন কাজ প্রচারিত হবে তা নিয়ে তিনি আশাবাদী। বললেন, ‘ঈদের সময় তো হালকা আমেজের কাজ বেশি হয়। তাতে কোনো সামাজিক বার্তা থাকে না। রসিকতার ছলে স্থূল ব্যাপার দেখানো হয় নাটকে, যা আমার রুচিতে বাধে। করতে বিরক্ত লাগে। নাটক তো সমাজের দর্পণ, জীবনের দর্পণ। নাটকের মাধ্যমে সমাজকে কোনো না কোনো বার্তা দেওয়া উচিত, সেটা মানুষকে ভাবাবে। নাটকের সেই পরিবেশ দেখেই অভিনয় করতে এসেছিলাম। এখন খুব একটা তেমন নাটক হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে এবার যে নাটকগুলো করেছি প্রতিটি নিয়ে আমি আশাবাদী। বেশ সিরিয়াস গল্প নিয়ে নাটকগুলো নির্মিত হয়েছে। হানিফ সংকেতের পরিচালনায় একটি, এস এ হক অলিকের দুটি ও সোহেল আরমানের একটি নাটকে অভিনয় করেছি। নাটকগুলোর নাম মনে পড়ছে না। তিনটি নাটকে আমার সহশিল্পী আবুল হায়াত। আমাদের চরিত্রগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। গল্পের শেষে কিছু মেসেজ দর্শকের মাঝে পৌঁছে যাবে বলে আমার বিশ^াস।’
মাবরুর রশীদ বান্নাহর তারকাবহুল ঈদের নাটক ‘মায়ের ডাক’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রেও আছেন দিলারা জামান। এ নাটক নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই প্রথম বান্নাহর সঙ্গে কাজ করলাম। গতকালই তাকে ফোন করে বললাম, তোমার ইউনিটে কাজ করে খুব ভালো লেগেছে। কেমন হয়েছে নাটকটি? ও বলল, খুব ভালো। দর্শকের ভালো লাগবে। এই নাটকে আমার তিন ছেলে তাহসান, তৌসিফ মাহবুব ও জোভান। তাদের বিপরীতে আছে মম, তাসনিয়া ফারিন ও কেয়া পায়েল। এত জনপ্রিয় শিল্পীর ভিড়ে নিজেকে আলাদা করে প্রতিষ্ঠিত করা কঠিন। আমি চেষ্টা করেছি কেন্দ্রীয় চরিত্রটি যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে। গাজীপুরের একটি রিসোর্টে দারুণ পরিবেশে শ্যুটিং হয়েছে। বাড়ি ফেরার সময় রিসোর্ট মালিক আমাকে বস্তা ভরে আম, কাঁঠাল, তরিতরকারি দিয়েছেন। বয়োজ্যেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে সবার কাছ থেকে এই ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাটুকু পাই বলে এখনো কাজ করি।’
দিলারা জামান সম্প্রতি শ্যুটিং শেষ করেছেন বদিউল আলম খোকনের সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘দায়মুক্তি’তে। এখানেও তার সহশিল্পী আবুল হায়াত। বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসার বিষয়টিকে উপজীব্য করে গল্পটি এগিয়ে গেছে। এ ছাড়া ‘মনপুরা’র পর জনপ্রিয় নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় নতুন আরেকটি সিনেমায় কাজ করতে যাচ্ছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বললেন, ‘আমি তো সেলিমের পরিচালনায় কাজ করতে ভীষণ পছন্দ করি। তার মনপুরা আমার ক্যারিয়ারের নতুন বাঁক। সেই সিনেমার “যাও পাখি বল তারে” তো আমাকে এখনকার ভাষায় হিট বানিয়ে ফেলেছিল। আবার যখন সে আমাকে নতুন কাজটির প্রস্তাব দেয়, সানন্দে রাজি হয়ে যাই। তবে দেশের যে পরিস্থিতি তাতে কবে কাজ শুরু করতে পারব জানি না।’ তবে কোন ছবিতে কাজ করবেন সেটা এখনো নিশ্চিতভাবে জানাননি পরিচালক কিংবা অভিনেত্রী কেউই। ধারণা করা হচ্ছে, সিনেমাটি হতে যাচ্ছে ২০১৯-২০ অর্থবছরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য সরকারি অনুদান পাওয়া ‘কাজল রেখা’।