মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০২:২৬ অপরাহ্ন

হুমায়ূন আহমেদ চলে যাওয়ার নয় বছর

নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাণের মহান কারিগর হুমায়ূন আহমেদ চলে যাওয়ার নয় বছর আজ। ২০১২ সালের এদিন সবাইকে কাঁদিয়ে মারা যান খ্যাতিমান এই লেখক।
হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মরণব্যাধি ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। সেখানে ২০১২ সালের ১৬ জুলাই তিনি চলে যান লাইফ সাপোর্টে। ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২৩ জুলাই দেশে ফিরিয়ে আনা হয় হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ। ২৪ জুলাই চিরনিদ্রায় শায়িত হন তার নিজ হাতে গড়া গাজীপুরের নুহাশপল্লীর লিচুতলায়।

ভক্ত-অনুরাগীসহ দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন নানান আয়োজনে বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখককে স্মরণ করছে। নিউইয়র্কের আকাশে সেদিন ছিল না কোন চাঁদ, ছিল না মায়াবতী জোৎস্না। তার চাওয়া চান্নিপসর রাতের বদলে নিউ ইয়র্কে সেদিন ঝকঝকে রোদ, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মতো অশ্রুসিক্ত ছিলো বাংলার রাতের আকাশ।

বাবা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়শা ফয়েজের ঘর আলো করে ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন।তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। রসায়ন শাস্ত্রের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

কালজয়ী উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ ও ‘শঙ্খনীল কারাগারের’ মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে শক্তিশালী এক কথাসাহিত্যিকের আগমনী জানিয়েছিলেন তিনি। তার প্রকাশিত সাহিত্যকর্ম তিন শতাধিক। গল্প বলার এক নতুন ধারায় তার সব গল্প-উপন্যাসই যেমন জনপ্রিয় তেমনি জনপ্রিয়তা পেয়েছে হিমু, মিসির আলী, বাকের ভাই ও রূপার মতো অসাধারণ সব চরিত্র।

এক সময় সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি মনোনিবেশ করেন চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণে। কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমণি, দুই দুয়ারি, শ্রাবণ মেঘের দিন, ঘেঁটুপুত্র কমলা তার সৃষ্টিকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের মনে যেমন, তেমনি নুহাশপল্লীর প্রতিটি গাছ, ফুল, পাখি, ঘাসের সঙ্গে মিশে আছেন হুমায়ূন আহমেদ। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৪ সালে ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com