শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০৪:৩০ অপরাহ্ন
পরিচয় করিয়ে দিতে মামুনুর রশীদ নামটিই যথেষ্ট। দর্শকমাত্রই জানেন, আধুনিক সময়ে তার মতো বলিষ্ঠ অভিনেতা, নাট্যকার ও নাট্যশিক্ষক খুব কমই আছেন এদেশে। স্বাধীন বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। নিয়মিত বই লেখেন, কলাম লেখেন, বক্তা হিসেবে দেশে-বিদেশে আমন্ত্রিত হন। কিন্তু যে অভিনয় তাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা দিয়েছে শত ব্যস্ততার মধ্যেও তা ভুলে যাননি তিনি। এই বয়সে এসেও দিব্যি অভিনয় করে যাচ্ছেন। তার বয়সী আরও অনেকেই অভিনয় করছেন নিয়মিত, কিন্তু তিনি ব্যতিক্রম। কারণ গৎবাঁধা চরিত্রে তাকে খুব একটা পাওয়া যায় না। হোক সে ব্যাপ্তিতে ছোট চরিত্র, তাতে থাকতে হবে বিশেষ কিছু। তাহলেই মামুনুর রশীদকে রাজি করানো যাবে। গেল ঈদে যে ক’টি নাটক নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তার মধ্যে এই অভিনেতার নাটক ‘বাবা তোমাকে ভালোবাসি’ অন্যতম। নাটকটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন বেশির ভাগ নাটকেই তো বাবা মায়ের চরিত্র নির্দিষ্ট গন্ডিতে আটকে গেছে। সেখানে অভিনয়ের তেমন সুযোগ থাকে না। কিন্তু প্রবীর রায় চৌধুরীর এই নাটকটি মূলত তিন ধরনের তিন বাবাকে নিয়ে। আমার সহশিল্পী ছিলেন আবুল হায়াত ও ফজলুর রহমান বাবু। আমরা তিন বন্ধু। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিন জন তিন ধরনের সামাজিক অবস্থানে জীবন নির্বাহ করি। আমারা কিশোর বেলায় কথা দিয়েছিলাম, ৫০ বছর পরে হলেও কোনো এক ঈদে একসঙ্গে ঘুরতে বের হব। সেই ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে কী ধরনের বাধা কিংবা বেড়াজাল পার করতে হয় সেটি দেখানো হয়েছে। খুবই ইমোশনাল একটি গল্প। তরুণ প্রজন্মের কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ছিল আমাদের ছেলে-মেয়েদের চরিত্রে। দুই প্রজন্মের এই আবেগের গল্পটি দর্শককে আপ্লুত করেছে। এজন্যই নাটকটি নিয়ে কথা হচ্ছে। ফেইসবুকে অনেকের কাছে এই নাটকের প্রশংসা শুনছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা খুবই ভালো দিক যে একটি ভালো গল্পের নাটক নিয়ে দর্শক কথা বলছে। তারা এভাবে ভালো গল্পগুলোকে সাপোর্ট করলে আরও ভালো ভালো কাজ হবে। আমরাও ভালো চরিত্রে হাজির হতে পারব।’
ঈদের পর লকডাউনের কারণে এখনো শ্যুটিংয়ে ফেরেননি এই প্রখ্যাত অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘১ আগস্ট থেকে কাজ শুরুর কথা ছিল। একটি খন্ড নাটক ও দুটি টেলিফিল্মের কাজ পিছিয়ে গেছে করোনার কারণে। লকডাউন শেষ হলে হয়তো কাজ শুরু করব।’
এখন সময় কাটছে কীভাবে জানতে চাইলে মামুনুর রশীদের উত্তর, ‘ঘরে থেকে তো আর সব কাজ সম্ভব নয়। তাই এখন লেখালেখির দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। বই লিখছি, পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখি নিয়মিত। আর বিটিভির একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকের স্ক্রিপ্ট লিখছি। অনেকেই জানেন, আমি ঢাকার পুরনো ইতিহাস নিয়ে জিন্দাবাহার নামে একটি ধারাবাহিক লিখছি। এখানে মূলত ১৭৫৭ থেকে ১৭৬৫ সালে ঢাকার উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা বর্ণনা করা হচ্ছে। এর মূল বিষয় হচ্ছে, এই সময়ে ঢাকার জিঞ্জিরা প্রাসাদে ছিলেন বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদদৌলার মা আমেনা বেগম, খালা ঘষেটি বেগম ও স্ত্রী লুৎফা। তার মা-খালাকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তরফ থেকে মুর্শিদাবাদে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পথিমধ্যে তাদের নৌকাডুবির মাধ্যমে মেরে ফেলা হয়। পরে লুৎফাকেও মুর্শিদাবাদে নেওয়া হয়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি খোশবাগে নবাবের সমাধি যেখানে, সেখানেই কাটিয়েছেন। এই ঘটনা আমাদের ইতিহাসের অন্যতম অংশ। নতুন প্রজন্ম যাতে সহজে ইতিহাসটি নিয়ে জানতে পারে এজন্য নাটকটি লেখা। আগামী ১০ তারিখ থেকে এই ধারাবাহিকের নতুন লটের কাজ শুরু হবে বলে শুনেছি। অভিনয় করছেন লুৎফর রহমান জর্জ, আজাদ আবুল কালাম, আহমেদ রুবেল, অনন্ত হীরা, শতাব্দী ওয়াদুদ, সমু চৌধুরী, রোজী সিদ্দিকী, নাজনীন চুমকি, মুনিরা মেমী, শর্মীমালা, নাইরুজ সিফাত, নিকিতা নন্দিনীসহ আরও অনেকে।’
এই নাটকের শেষের দিকে মামুনুর রশীদকে অভিনয়ও করতে দেখা যাবে। নিজের চরিত্র নিয়ে তিনি বলেন, ‘রমনী মোহন তলাপাত্র নামের এক বিশ্বাসঘাতক বাঙালির চরিত্রে অভিনয় করার কথা রয়েছে। এই চরিত্রটি মূলত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে রাজস্ব সংক্রান্ত কাজ করত। কাজের সূত্রে ঢাকাতেও থাকতে হয় তাকে। চরিত্রটিতে অভিনয়ের জায়গা রয়েছে। নেতিবাচক চরিত্র হলেও দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হবে বলে আশা করছি।’
এদিকে, সম্প্রতি ভারতের ওয়েব প্ল্যাটফর্ম জি ফাইভে মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’। সামাজিক পলিটিক্যাল ধাঁচের এই সিরিজে আছে নাটকীয়তা, সাসপেন্স সবই। এ সিরিজে অভিনয় করেও মামুনুর রশীদ প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এর আগে মুক্তি পাওয়া তৌকীর আহমেদের ‘স্ফুলিঙ্গ’ সিনেমাতেও তার অভিনয় দর্শকের নজর কেড়েছে।