শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০১:৪২ অপরাহ্ন
ডলি সায়ন্তনীর কণ্ঠের মাদকতায় মাতেননি এমন শ্রোতা কমই আছেন। রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, কনকচাঁপা, শাকিলা জাফরের মতো সুরেলা কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যেই নিজের জায়গা শক্ত করেন এই শিল্পী। এ ক্ষেত্রে তাকে সবচেয়ে সাহায্য করেছে তার ব্যতিক্রমী গায়কী ও কণ্ঠস্বর। গতকাল ছিল এই জনপ্রিয় শিল্পীর জন্মদিন। বিশেষ দিনে বন্ধুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে আরেক জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর লেখেন, ‘বাংলাদেশ ডলি সায়ন্তনীর গায়কীকে মূল্যায়ন করতে পারেনি কখনো। অবশ্য সে নিজেও একটা আন্তর্জাতিক মানের গাধা। কনকচাঁপা আপার দীর্ঘ সেশনের পরপর ডলিই আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের সেরা গায়িকা। ডলি একটু মুডি আর খানিক মেজাজি। এখনো গান শিখেই যাচ্ছে, এখনো নিয়মিত অনুশীলনে থাকে। সেরা সৌভাগ্য ডলির মতো ক্ষণজন্মা একজন প্রতিভা আমার ভালো বন্ধু। সম্ভবত এই দেশে ডলি আমার কথাকেই একটু বেশি গুরুত্ব দেয়। আজ ডলির শুভ জন্মদিন। অনেক গান গেয়েছি আমরা, আরও গাইব বেঁচে থাকলে। ডলি সবসময়ই আমার প্রিয় এবং সেরা ডুয়েট গানের পার্টনার। দোয়া করি অবুঝ বাংলাদেশের অন্ধ ইন্ডাস্ট্রি তার মর্যাদা বুঝুক সময় থাকতে। শুভ জন্মদিন প্রিয় বন্ধু আমার।’
আসিফের এই বার্তায় ডলি সায়ন্তনীর শিল্পীসত্তা এবং ব্যক্তিসত্তার অনেকটাই পরিচয় পাওয়া যায়। তাইতো ডলি জন্মদিনেও একেবারেই নিভৃতচারী। নিজের মতো করেই পরিবারের সঙ্গে ছোট্ট আয়োজনে জন্মদিন কাটিয়েছেন বলে জানালেন। তিনি আরও বলেন, ‘জন্মদিনে আমাকে যারা শুভকামনা জানিয়েছেন সবাইকে ধন্যবাদ। আমি জন্মদিন নিয়ে খুব একটা এক্সাইটেড থাকি না। তবে সবার ভালোবাসায় সিক্ত হই।’ আসিফ আকবরের শুভেচ্ছাবার্তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আসিফ ভাই আমাকে অনেক কাছ থেকে জানেন। তাই তিনি আমাকে সঠিকভাবে বুঝতে পারেন। এজন্যই কথাগুলো অকপটে বলতে পেরেছেন। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা। তিনিও আমার খুব পছন্দের মানুষ। তারসঙ্গে আরও অনেক গান করতে চাই।’
গত জন্মদিনে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ‘তুমি বড় সুখে আছ’ নামের একটি গান প্রকাশ করেছিলেন ডলি। এরপর ‘দেখলে তোমায় লাগে ভালো’ শিরোনামের আরেকটি গান করেছেন। এরপর আর তাকে সেভাবে পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নানা কারণে গানে অনিয়মিত ছিলাম দীর্ঘদিন। আগে গানের যে পরিবেশ ছিল এখন তা নেই। ঘরে ঘরে স্টুডিও, জনে জনে শিল্পী। অনেকেই এক গানেই ভাইরাল হচ্ছে। সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ যেমন হারিয়ে গেছে। গানের প্রতি ভালোবাসা ও সাধনাও কমে গেছে। এখন প্রায় জনেই নিজেকে প্রচারের জন্য ব্যস্ত থাকে। তারপরেও যেহেতু গানের মানুষ, তাই চাইলেও গানকে ছাড়তে পারিনি। অসংখ্য ভক্তের ভালোবাসা আমাকে গান ছাড়তে দেয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার অনেক ভক্ত আছেন, যারা আমার প্রায় সব গানের খবর রাখেন। আমি নিজেও হয়তো ততটা জানি না। আমি অবাক হয়ে যাই। তাদের ভালোবাসার কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।’
তবে করোনাকাল গেলে নতুন উদ্যমে হাজির হবেন ডলি সায়ন্তনী। তিনি বলেন, ‘এখন খুব কম গানই স্থায়িত্ব পাচ্ছে। পুরনো গানগুলো এখনো জনপ্রিয় হয়ে আছে। আগের গানে মাদকতা ছিল। কথা, সুর মিলে শিল্পীর কণ্ঠে দারুণ শোভা পেত। সব শ্রেণির শ্রোতাদের কাছে এসব গান গ্রহণযোগ্য। এখন বিভিন্ন প্রতিযোগিতাতেও আগের গান ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেক সময় পুরনো গানকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়। তাই একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছি। আমার গানগুলো সংরক্ষণের চেষ্টা করছি। জনপ্রিয় গানগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবছি। আগের গানগুলোকে নতুন করে সংগীতায়োজন করা যেতে পারে তবে তার মৌলিকত্ব রাখতে হবে। মৌলিকত্ব বাদ দিয়ে কথার পরিবর্তন করা অন্যায়। ইতিমধ্যে ১০টি গান নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশের উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। বেশ কিছুদিন আগেই এর কাজ শুরু হয়েছে। গানগুলো একটি একটি করে ভিডিওতে প্রকাশ পাবে।’
এখনকার গান কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে এই মেধাবী শিল্পী বলেন, ‘ভালোলাগার মতো গান খুব কম হচ্ছে। গান নিয়ে তেমন একটা ভাবা হচ্ছে না। খুব দ্রুত গান তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু আমরা গানের পেছনে সময় ব্যয় করেছি। গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীরা প্রতিনিয়ত গান নিয়ে বসেছি। গানের কথা ও সুর নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণের পর শিল্পীর কণ্ঠে উঠত। সবার প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর গান তৈরি হতো। সে জন্যই তখনকার গানগুলো এত জনপ্রিয় হয়ে কালজয়ী হয়ে আছে। কেউ একটি গান লিখলে তা দেখতাম, সুর করলে সবাই বলতাম দেখি কেমন হয়েছে, আবার শিল্পীর কণ্ঠে গানটি শুনতাম কেমন লাগছে। আমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক খুব ভালো ছিল। এখন কমার্শিয়াল চিন্তাটাই বেশি।’