শুক্রবার, ১৭ Jul ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন
তুরস্কের সেকুলারদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়িপ এরদোয়ান ভোট বাড়াতে ইসলামকে ব্যবহার করছেন। তার রাজনৈতিক দলের নাম জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) হলেও দলটির বিরুদ্ধে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগটা পুরোনে।
এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ বড় হয়ে ওঠে ২০২০ সালে। ১৪৫৩ সালে ইস্তাম্বুল দখলের পর অটোমানরা এক সময়ের গ্রিক গির্জা আয়া সোফিয়াকে মসজিদ বানিয়ে ফেলে। পরে কামাল পাশার সময় একে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। তুরস্কে মুসলমান-খ্রিস্টান ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠা স্থাপনাটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদাও পেয়েছিল। কিন্তু আদালতের রায়ে তা আবার মসজিদ হলে জুম্মার নামাজ পড়ে ২০২০ সালে তার উদ্বোধন করেন এরদোয়ান।
সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের বাইরেও এরদোয়ানের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে মূলত ধর্মীয় নেতা আলী এরবাসক। আয়া সোফিয়ায় ৯০ বছর পর যেদিন প্রথম নামাজ হলো, সেদিন খুতবা পড়িয়েছিলেন তিনি। সেই থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সরকারি ভবন উদ্বোধন করা হলেই দেখা যায় তাকে।
চলতি মাসে আঙ্কারায় একটি নতুন আদালত ভবনের উদ্বোধন করেন এরদোয়ান। আলী এরবাসকে দিয়ে ইসলাম ধর্ম মোতাবেক বিশেষ দোয়া পাঠ করানোর কারণে আবার শুরু হয় সমালোচন। তুরস্কের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদরা বলছেন, এর মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের চরম অমর্যাদা হয়েছে। তারা মনে করেন, ধর্মনিরপেক্ষ দেশে কোনো বিশেষ ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যায় বেশি হলেও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় শুধু সেই ধর্মের অস্তিত্ব তুলে ধরা উচিত নয়।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে সুউচ্চ এক ভবনের উদ্বোধন করেন এরদোয়ান। নিউইয়র্কে বসবাসরত তুর্কি কূটনীতিকদের জন্য নির্মাণ করা ভবনটির উদ্বোধনেও নতুন কিছু দেখা যায়নি। সেখানেও হাজির ছিলেন আলী এরবাস। সেখানেও তার নেতৃত্বে ইসলাম ধর্মমতে দোয়া-দরুদ পড়েই শুভ উদ্বোধন হয় ভবনটির।
বিরোধীদের অভিযোগ- ২০২৩ সালের নির্বাচনে ভোট বাড়াতেই ইসলাম ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন এরদোয়ান। সম্প্রতি ধর্ম বিষয়ক জাতীয় পরিষদ দিয়ানেটকে ঘিরেও এমন অভিযোগ উঠেছে। দিয়ানেটের নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেলে ৩০ জন কর্মীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, দিয়ানেটের বাজেট তুরস্কের অনেক মন্ত্রণালয়ের চেয়েও বেশ। তারপরও আগামী বছর প্রতিষ্ঠানটির বাজেট বাড়িয়ে ১.৮৬ বিলিয়ন করার ঘোষণা দিয়েছেন এরদোয়ান।
তুরস্কের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদরা সাম্প্রতিক সমীক্ষার তথ্য উল্লেখ করে বলছেন, এরদোয়ান বিশেষ করে শিয়া মুসলমানদের ভোট টানতে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ইমাম হাতিপ’ স্কুল ও মসজিদের সংখ্যাও বাড়াচ্ছেন। গত এক দশকে তুরস্কে মসজিদের সংখ্যা শতকরা দশভাগ বেড়েছে।
তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইসলাম ধর্মকে ব্যবহারের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেননি রেচেপ তাইয়িপ এর্দোয়ান। বরং তার কার্যালয় থেকে ১০০ বছর আগের একটি ছবি শেয়ার করা হয়েছে। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নতুন পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে নামাজ পড়ছেন ‘আধুনিক তুরস্কের জনক’ মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক।