শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন

হঠাৎ মোশাররফ করিমের ব্রোকার

কোনো আওয়াজ ছাড়াই দারুণ একটি কাজ করে ফেলেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। শুধু তাই নয়, কাজটি আর তিন দিন পর অর্থাৎ পহেলা অক্টোবর ভারতের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি ফাইভে মুক্তিও পাবে। দর্শক কাজটির বিষয়ে জানতে পারে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেতার একটি পোস্ট দেখে। নতুন কাজটির প্রথম দর্শনে একেবারেই ভিন্নরূপে হাজির মোশাররফ। ওয়েব ফিল্মটির নাম ‘দ্য ব্রোকার’। নিম্ন মধ্যবিত্তের সত্তার দ্বন্দ্ব নিয়ে এর গল্প। নির্মাণ করেছেন বহু টিভি নাটকের নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ। মোশাররফ করিম বলেন, ‘এ মাসেই ব্রোকারের শ্যুটিং করেছি। উত্তরা, পুরান ঢাকা, বসুন্ধরা রিভার ভিউসহ আরও বেশকিছু লোকেশনে তিনদিন শ্যুটিং হয়েছে। কাজটি দ্রুত সম্পাদনা শেষে এখন দর্শকের সামনে আসার অপেক্ষায়। ভালো লাগছে বিষয়টি। আশা করছি জীবনঘনিষ্ঠ গল্পটি দর্শকের ভালো লাগবে।’ কাজটিতে নিজের চরিত্র নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আশপাশের চেনা চরিত্র এটি। এমন অনেক মানুষ আছে সমাজে। যারা শুধু স্ট্রাগল করেই যায়। জীবনে ভালো কিছু করতে অনেক কিছু ট্রাই করে, কিন্তু কোনো কিছুতেই সফল হয় না। এই জীবন থেকে মুক্তি পেতে লোকটি ব্রোকারের কাজ ধরে। এই ব্রোকার শেয়ারবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। এখানে সে বাসাবাড়ি পরিবর্তন থেকে শুরু করে এ বিষয়ক সব ধরনের কাজ করে। একটি ঘটনার মুখোমুখি হয়ে সে মানসিক দ্বন্দ্বে ভুগতে থাকে। পরিবারকে বেছে নেবে? নাকি নিজের কাজকে?’

পরিচালক বলেন, ‘ব্রোকারের গল্পটি যেখানে শুরু হয়, শেষ হয় একদম অন্য একটি প্রেক্ষাপটে গিয়ে। এই গল্পকে একটি সাইকোলজিক্যাল গল্প বলা যেতে পারে। দারুণ এক সমস্যায় পড়েন মোশাররফ করিম। সামনে তার পরিবার ও ন্যায়বিচার। এ দুটি বিষয় থেকে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে তার। কোনটি তিনি বেছে নেবেন তা দেখা যাবে ৪৫ মিনিট দৈর্ঘ্যরে এই ওয়েব কনটেন্টে। এতে আরও অভিনয় করেছেন অর্ষা।’

আবু হায়াত মাহমুদ আরও বলেন, ‘বরাবরই মোশাররফ করিমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অসাধারণ। আমার ওয়েব সিরিজ দিয়েই কিন্তু তার ওয়েবে অভিষেক হওয়ার কথা ছিল। তাকে আর মমকে জুটি করে ভালোবাসা নামে সেই ওয়েব সিরিজের শ্যুটিং শেষ করি। কিন্তু সেটি মুক্তির আগেই আশফাক নিপুণের মহানগর মুক্তি পায়। সেই কাজটি নিয়েও আমি এগোচ্ছি। শিগগিরই বিদেশি একটি ভালো প্ল্যাটফর্মে সিরিজটি মুক্তি পাবে।’

বিদেশি প্ল্যাটফর্মের কাজে বাড়তি কোনো সুযোগ পাওয়া যায় কি না জানতে চাইলে মোশাররফ করিম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের কাজের একটা প্রচেষ্টা থাকে। যেটি আমাদের দেশের কনটেন্টে সব সময় হয় না। কাজটির মান ধরে রাখতে যে ধরনের প্রস্তুতি ও সুযোগ-সুবিধা দরকার, সবই তারা দেয়। এটি অভিনেতা হিসেবে আরামের। নিজের কাজটুকু কোনো বাড়তি চাপ ছাড়া করা যায়। তাছাড়া দেশের বাইরের দর্শকও আমার কাজ দেখবেন, সেটিও আলাদা আনন্দের।’

আপনার মতে ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় সংকট কী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা তো একটা প্রক্রিয়াগত ব্যাপার। সেই প্রক্রিয়ার খুবই জরুরি আর প্রাথমিক একটা স্তম্ভ হলো ইনস্টিটিউশন। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শেখার জায়গার তীব্র অভাব। থিয়েটারের মাধ্যমে হয়তো অভিনয়শিল্পী তৈরি হচ্ছে কিছু। কিন্তু চিত্রনাট্য লেখা, পরিচালনা, প্রযোজনা, সম্পাদনা, মেকআপসহ নানা টেকনিক্যাল কাজ শেখার জায়গা নেই। তাছাড়া থিয়েটারগুলোও ঢাকাকেন্দ্রিক। তাহলে মফস্বলের মানুষ কোথায়, কীভাবে অভিনয় শিখবে? এটা তো একটা ব্যাপার। আরেকটা হলো শিল্পের সঙ্গে বসবাস, একটা সুদীর্ঘ পথ। চট করে ফলাফল চাইলে হবে না। থিয়েটার তো ছয় মাসের কোর্স, এক বছরের ব্যাপার নয়। এটা একটা জীবনযাপন পদ্ধতি। আজ শট দেব, কাল হিট হবে; পরশু নাম, টাকা কামিয়ে তারকা হব এভাবে হয় না। যারা এ কাজগুলো প্রাণের তাগিদে করেন, আনন্দের জন্য করেন, কেবলই তাদেরই থাকা উচিত।’

দেশের সীমানা পেরিয়ে ভারতের কলকাতায়ও দারুণ জনপ্রিয় মোশাররফ করিম। ব্রাত্য বসু পরিচালিত ‘ডিকশনারি’ ছবিটি মুক্তির পর সেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে অন্য মাত্রা। ব্রাত্য বসুর পরের ছবিতেও অভিনয়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে তার। এ প্রসঙ্গে বললেন, ‘আমি যখন ডিকশনারির শ্যুটিং করি, তখনই পরিচালক আমাকে তার পরের ছবিতে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সেই সময়ই আমি গল্প শুনি। হুগলির গ্যাংস্টার হুব্বা শ্যামলের বায়োপিক।’ দুই বাংলার কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেই একেক পরিচালকের কাজের স্টাইল একেক রকম। কেউ হয়তো খুবই গুছিয়ে কাজ করেন। আবার এমন পরিচালক আছেন, যিনি শ্যুটিংটা হয়তো খুব গুছিয়ে করছেন না। কিন্তু মনে মনে গল্প বা চরিত্রের ব্যাপারে খুব গোছানো, পরিষ্কার। তাই মোটা দাগে বলা যাবে না যে এই বাংলায় এ রকম, ওই বাংলায় সে রকম।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com