শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

পরীমনির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার অপর দুই অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হলেন আশরাফুল ইসলাম ও কবির হোসেন। মামলা হওয়ার দুই মাসের মাথায় আজ সোমবার বিকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে গত ৪ আগস্ট অভিযান চালিয়ে বিদেশি মদসহ পরীমনি, আশরাফুল ইসলামকে আটক করে র‍্যাব। এ ঘটনায় র‍্যাব পরীমনির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গুলশান থানায় মামলা করে। পরীমনির বাসা থেকে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, ৪ গ্রাম আইস উদ্ধার হয় বলে র‍্যাব মামলায় উল্লেখ করে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, পরীমনির বাসা থেকে জব্দ করা আলামতগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষায় মাদকের উপস্থিতি মিলেছে। এ জন্য পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, পরীমনির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি এখনো তাঁর জানা নেই।

পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত আরো বলেন, আগামী ১০ অক্টোবর এই মামলার শুনানির জন্য দিন ঠিক রয়েছে। অভিযোগপত্র দেওয়া হলে, সেদিন পরীমনির জামিন চেয়ে আবেদন করা হবে।

গত ৩১ আগস্ট ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া পর্যন্ত পরীমনির অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।

পরীমনিকে তিন দফায় মোট সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডি।

পরীমনির বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী হলেন র‌্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান। মামলায় মজিবরের অভিযোগ, ৪ আগস্ট তিনিসহ র‌্যাব-১-এর সদস্যরা গুলশান-১ গোলচত্বরে অবস্থান করছিলেন। বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, বনানীর একটি বাসায় পরীমনি সহযোগী আশরাফুল ইসলামের মাধ্যমে বিদেশি মদ সংগ্রহ করে নিজের বাসায় মজুত রেখেছেন। তাঁরা বাসায় অবস্থান করছেন। পরীমনির দেখানো মতে শয়নকক্ষের একটি কাঠের ফ্রেমের ভেতর থেকে বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া শয়নকক্ষ থেকে একটি সাদা জিপারে রাখা চার গ্রাম আইস বা ক্রিস্টালমেথ জব্দ করা হয়। আরও জব্দ করা হয় এক ব্লট এলএসডি মাদক।

মামলায় বলা হয়, পরীমনি এসব মদ কবির নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করে বাসায় রাখতেন। একই মামলায় আবার র‌্যাব দাবি করেছে, চিত্রনায়িকা পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, তিনি প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের কাছ থেকে মদ সংগ্রহ করতেন। তবে পরীমনি ও আশরাফুল ইসলামের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, র‌্যাব বাসায় মদ পাওয়ার অভিযোগে যে মামলা করেছে, তা সঠিক নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com