বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন
কিংবদন্তি অভিনেত্রী, ফ্যাশন আইকন সুবর্ণা মুস্তাফা অনেক দিন ধরে অভিনয় থেকে দূরে। তবে দর্শক তাকে ভুলে যাননি। নানা কারণে তিনি আলোচনায় উঠে আসেন। এবার তিনি খবরের শিরোনাম সেরা করদাতা হিসেবে। বিষয়টি নিয়ে সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, ‘এখন তো সব জায়গায় নেগেটিভিটির চর্চা। কেউ ভালো কাজ করলেও তার মধ্যে মানুষ নেগেটিভিটি খুঁজে বের করে। সে সময়ে দাঁড়িয়ে একটি ভালো কাজকে উৎসাহ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসেটা অবশ্যই ভালো লাগার। তবে কর দেওয়া তো কোনো মহৎ গুণ নয়। যেকোনো নাগরিকের এটা কর্তব্য। আমি শুধু নিজের কর্তব্যটি ঠিকঠাক পালনের চেষ্টা করেছি। এর আগেও একাধিকবার এই তালিকায় আমার নাম এসেছে। সেটি দেখে কেউ যদি উৎসাহ পান তবেই সার্থকতা।’
অভিনেতা/অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে এবার সেরা করদাতার তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। সঙ্গে আছেন বিদ্যা সিনহা মিম ও বাবুল আহমেদ। এ ছাড়া গায়ক/গায়িকা ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন তাহসান রহমান খান, এসডি রুবেল ও কুমার বিশ্বজিৎ দে। বরাবরের মতো এবারও দেশের সেরা করদাতাদের নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর। জ্যেষ্ঠ নাগরিক, ব্যবসায়ী, শিল্পীসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৪১ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে সেরা করদাতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। আগামী ২৪ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে সম্মাননা ও ট্যাক্স কার্ড দেওয়া হবে।
সর্বশেষ চয়নিকা চৌধুরীর প্রথম সিনেমা ‘বিশ^সুন্দরী’তে কাজের কথা থাকলেও তিনি অবশেষে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তার বদলে শ্যুটিং করেন স্বামী বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত বিটিভির একটি ধারাবাহিকে। সেই ধারাবাহিকের প্রচারও শেষ হয়েছে বেশ আগে। তাই ভক্তরা প্রিয় অভিনেত্রীকে পর্দায় মিস করেন। তিনি নিজেও অভিনয় কতটা মিস করেন? এ প্রসঙ্গে সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, ‘অভিনয়টা ভালোবেসেই করেছি আজীবন। এই কাজটি ছাড়া অন্যকিছু খুব একটা পারিও না। কিন্তু ভালোবাসার জায়গাটায় ভালোবাসার কমতি দেখতে পেলে ভালো লাগে না। তাই কাজ আগের চেয়ে অনেক কমিয়ে দিয়েছি। তবে করোনা না এলে হয়ত অল্প-বিস্তর কাজ করা হতো। এখন তো সেভাবে কেউই কাজ করছে না। আমিও তার ব্যতিক্রম নই।’
অভিনয়ে না থাকলেও সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে নিজ থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকেন। এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে এক বিশ্রী অনুভূতির মধ্যে বসবাস করছি। গ্লানি, দুঃখ, ক্ষোভ সব কিছু মিলেমিশে একাকার। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে যেন কালো একটা পর্দা পড়ে গেল। ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর তিন লক্ষ নারীর সর্বোচ্চ ত্যাগকে অসম্মানিত হতে দেখলাম। বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ সোনার বাংলাকে ধর্মের ধুয়োধারীরা কলুষিত করতে উদগ্রীব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে চলতে পারে না। নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে হবে। দেশকে এই কুচক্রীদের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। যারা ষড়যন্ত্র করে আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাইছে, দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, তাদের বলছি‘বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবার ঘুঘু তোমার বধিব পরান। বাংলাদেশ এখন পুরোটাই ডিজিটাল। যারা এই কাজগুলো করছে তারা সবাই চিহ্নিত। তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে, আইনের শাসন দিয়েই তোমরা শাস্তি পাবে। সহনশীল হওয়ার দিন শেষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’, মানে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ধর্ম যার যার উৎসব সবার, সকল ধর্মের প্রতি সমান সম্মান। জগন্নাথ হল যখন ভেঙে পড়ল, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী, সাধারণ মানুষ, ডাক্তার, নার্স, সারাদিন সারারাত সবাই এক সঙ্গে উদ্ধার কাজ, রক্ত দেওয়া, ওষুধ আনার কাজ করে গেছি। মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেই বাংলাদেশ আমরা ফেরত চাই।’
এখন শোবিজের কাজ কীভাবে দেখছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবসময় ভালো-মন্দ মিলিয়েই কাজ হয়। তবে একটা বিষয় খারাপ লাগে ভাবলে। সব গুণী মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। মেধাশূন্যতা একটি জাতিকেই ধ্বংস করে দেয়। এজন্য সাংস্কৃতিক অঙ্গন নিয়ে কিছুটা সংশয়তো আছেই। তবে একই সঙ্গে আমি আশাবাদী। তরুণরা কেউ কেউ খুব ভালো কাজ করছে। তারা দেশের শিল্প-সাহিত্য-সিনেমাকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবেএটাই প্রত্যাশা করি। আমি সবসময় তরুণদের পাশে থাকতে চাই। ভালো কাজে উৎসাহ দিই। যাতে তারা আরও ভালো করতে পারে।’