বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন
প্রথম সিনেমা ‘মৃত্তিকা মায়া’তে অভিনয় করেই সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন তিতাস জিয়া। প্রেক্ষাগৃহে চলছে তার দ্বিতীয় সিনেমা ‘নোনা জলের কাব্য’। তার অভিনয় প্রশংসা কুড়াচ্ছে। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
মস্কো থেকে…
আমি এখন রাশিয়ার মস্কোতে। নাট্যকলার ওপর পিএইচডি করার জন্য এসেছি। তাই নিজের সিনেমা মুক্তির সময় সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছি না। এ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আক্ষেপ আছে। কিন্তু প্রযুক্তির কল্যাণে সেই আক্ষেপ অনেকটাই কমে গেছে। এই যে, আপনার সঙ্গে সিনেমা নিয়ে কথা বলছি। ভিডিও কলে অনেকগুলো প্রচারণামূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি।
সাড়া…
এক কথায় অসাধারণ সাড়া পাচ্ছি। এ ধরনের সিনেমা নিয়ে মানুষের এত আগ্রহ দেখে খুব ভালো লাগছে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে আমার অভিনয়ের প্রশংসা, সিনেমাটির প্রশংসা করছেন। ছবিতে আমি রুদ্র নামে এক ভাস্করের চরিত্রে অভিনয় করেছি। চরিত্রটিতে দর্শক আমার অভিনয় বিশ্বাসযোগ্য মনে করেছেন এটাই সার্থকতা।
প্রত্যাশার চাপ…
প্রথম সিনেমাতে সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি। তাই দর্শকের মধ্যে আমার অভিনয় নিয়ে উচ্চাশার জন্ম নিয়েছে স্বাভাবিকভাবেই। জানতাম, দ্বিতীয় ছবিতে আমার অভিনয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। তাই ‘নোনা জলের কাব্য’ করার সময় সেই প্রত্যাশা পূরণের চাপ ছিল। এজন্য রুদ্র চরিত্রটি হয়ে উঠতে পরিশ্রম, সততা কিংবা নিষ্ঠার কোনো কমতি রাখিনি।
প্রস্তুতি…
অভিনেতার কাছে কোনো চরিত্র হয়ে ওঠার বিষয়ে জানতে চাওয়াটা অনেক কঠিন প্রশ্ন। অনেক অভিনেতা হয়তো উত্তর দেন। কিন্তু আমার মনে হয়, একজন ম্যাজিশিয়ানকে তো কেউ জিজ্ঞেস করে না, জাদুটি কীভাবে দেখালেন? সেই সিক্রেটটা তিনি কখনোই বলবেন না। অভিনেতারাও ক্যামেরা কিংবা মঞ্চে একটা ম্যাজিক ক্রিয়েট করার চেষ্টা করেন। প্রতিটি চরিত্র হয়ে ওঠার পেছনে আলাদা গল্প, আলাদা প্রস্তুতি, আলাদা প্রসেস থাকে। তবে যদি বলতে হয়, একজন ভাস্করের চরিত্রে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করতে কী করেছি? তবে বলব, এর পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। প্রথমত, এটি একজন শিল্পীর চরিত্র। আমিও আর্টের ছাত্র এবং এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক। তাই একজন আর্টিস্টের সাইকোলজি বোঝাটা আমার জন্য অপেক্ষাকৃত সহজ। এর বাইরে শারীরিক অভিনয়ে ভাস্করের আমেজ আনতে এই ছবির ভাস্কর্যগুলো যিনি করেছেন তাকে অনুসরণ করেছি।
কাস্টিং…
‘মৃত্তিকা মায়া’ ছবিতেও আমি মোটাদাগে একজন ভাস্কর। তবে সেই জন্য ‘নোনা জলের কাব্য’র কাস্টিং ডিরেক্টর কিংবা পরিচালক আমাকে রুদ্র চরিত্রের জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন কিনা জানি না। আমার কাছে ‘বৈশাখ’ আর ‘রুদ্র’ সম্পূর্ণ দুুটি আলাদা চরিত্র। একজন সশিক্ষায় শিক্ষিত গ্রামীণ সমাজের প্রতিনিধি। অন্যজন ঢাকায় ভাস্কর্য নিয়ে পড়াশুনা করা। বৈশাখ শুধু মাটি দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরি করে। আর রুদ্র অনেক কিছু দিয়ে। তবে এটা ঠিক যে রুদ্র হয়ে উঠতে বৈশাখের প্রস্তুতি আমাকে বেশ সাহায্য করেছে।