বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন
জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সিমলা আর শিশুশিল্পী থেকে কৈশোরে পা রাখা মামুনকে জুটি করে সাত বছর আগে শুরু হয় নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প ছবিটি। শুরু থেকেই এই অসমবয়সী জুটির কারণে ছবিটি আলোচনায় আসে। এরপর ছবির একটি দৃশ্যে সিমলা আর মামুনের ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ফাঁস হওয়ার পর ছবিটি আবারও আলোচনায় আসে। এরপর শুরু হয় পরিচালক রুবেল আনুশ আর নায়িকা সিমলার দ্বন্দ্ব। শিডিউল অনুযায়ী সিমলার কাজ শেষ না করা, পারিশ্রমিক জটিলতার বিষয়টি সামনে আসে। পরিচালকও শিমলার অপেশাদার আচরণ নিয়ে কথা তোলেন। সব মিলিয়ে সিমলা পুরো সিনেমার শ্যুটিং না করেই ছবিটি থেকে সরে দাঁড়ান। পরে ছবিটি অন্যভাবে শেষ করেন নির্মাতা। দুই দফা সিনেমাটি আটকে দেয় সেন্সর বোর্ড। অবশেষে সিনেমা হলের আশা ছেড়ে দিয়ে ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’। আর তাতেই আবারও আলোচনায় এ ছবিটি। ২৫ নভেম্বর লাইভ রেডিও নামক ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তির ২৪ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই ছবিটি ৬৫ হাজার ভিউয়ের রেকর্ড গড়েছে। ৪৮ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই তা ১ লাখ ভিউয়ের ঘর পার হয়েছে। এই কদিনে ছবিটির ভিউ হয়েছে পাঁচ লাখের বেশি। পরিচালক আনুশ বলেন, ‘আশা ছিল ছবিটি মানুষদের সিনেমা হলে দেখাব। এখন যেহেতু সেন্সর বোর্ডের বিজ্ঞ সদস্যরা ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আমার মনে হয়েছে সেন্সর বোর্ডের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে কোনো লাভ হবে না। আর আমরা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউই সেন্সর ছাড়পত্র ছাড়া চালাতে রাজি নন। তাই ইউটিউবে মুক্তি দিলাম। সেখানে যেভাবে দর্শকদের সাড়া পেয়েছি, তা আমরা কেউই আশা করিনি। ইউটিউব চ্যানেলের কমেন্ট বক্সে ছবিটি নিয়ে পজেটিভ-নেগেটিভ কথায় ভরপুর। তবে বেশিরভাগই পজেটিভ। আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’ দর্শকদের এ আলোচনা-সমালোচনাকে ভালো দৃষ্টিতে দেখছেন আনুশ। তিনি বলেন, ‘দর্শক ভালো-মন্দ সমালোচনা করছেন তার মানে তারা ছবিটি দেখছেন। তাদের সমালোচনাগুলো আমাদের সামনে পথ চলায় সহায়ক হবে।’
এদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর এই ছবি দিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হলেন সিমলা। ছবিটি ইউটিউবে মুক্তির পর তিনিও নাকি ভালো সাড়া পাচ্ছেন। জানালেন, ‘আমার মা ঢাকা এসেছেন। তিনি একটু অসুস্থ। আমার এক ভাইও অসুস্থ ছিলেন। তাদের নিয়ে হাসপাতাল দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে। তাই এখনো ছবিটি দেখার সুযোগ পাইনি। তবে শুনেছি ভালো যাচ্ছে। আমার পরিচিত কয়েকজন ইউটিউবে দেখেছেন। ফোনে আমাকে প্রশংসা করেছেন তারা। দু-এক দিনের মধ্যে দেখব। ব্যস্ততা একটু শেষ হোক।’
সিমলার ক্যারিয়ারের সব সিনেমাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। এটি ইউটিউবে মুক্তি পাওয়ায় কোনো আক্ষেপ আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বড় পর্দায় ছবি দেখার স্বাদই আলাদা। সেটা তো আর হলো না। সেন্সর বোর্ড ছবিটি হলে প্রদর্শনের অযোগ্য ঘোষণা করেছে। সেটি আমি জানতাম না। এর কারণ ছবির পরিচালকই ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু দুঃখজনক, ছবির শিল্পী বা কোনো গণমাধ্যমেও বিষয়টি পরিষ্কার করেননি পরিচালক। এই ছবির একজন শিল্পী হিসেবে এ বিষয়ে এখনো আমি অন্ধকারে আছি। বোর্ড তাদের মেধা দিয়ে ছবিটি বিচার-বিবেচনা করেছে। তবে আমি মনে করি, সেন্সরে নিষিদ্ধ হওয়ার মতো কোনো দৃশ্য বা সংলাপ এ ছবিতে নেই। তেমন কোনো আপত্তিকর দৃশ্যও নেই। আমি সে ধরনের কোনো দৃশ্যে কাজও করিনি। আমি “ম্যাডাম ফুলি” ছবিতে কাজ করে সিনেমায় যে “ভার” অর্জন করেছি, তা তো নষ্ট করতে পারি না।’
ছবিতে নিজের উপস্থিতি নিয়ে সিমলা বলেন, ‘যে গল্প শুনে আমি কাজ শুরু করেছিলাম, আমার যে কাজটুকু করার কথা ছিল, তার শতভাগের মধ্যে ৩০ ভাগ করা হয়েছে। আমার চরিত্রের ৭০ ভাগ কাজই হয়নি। হয়তো গল্প ঘুরিয়ে ছবিটি শেষ করা হয়েছে।’
বলিউডের ছবিতে কাজের খবর শোনা গিয়েছিল এই নায়িকার। এ প্রসঙ্গে বলেন, “সফর’ নামে একটি বলিউড সিনেমার শ্যুটিং, ডাবিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। মিউজিকের কাজ শেষের পথে। পৃথিবীর বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শনীর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ছবিটি। এ ছাড়া গোবিন্দ প্রোডাকশন থেকে একটি ছবিতে কাজের কথা চূড়ান্ত হয়েছিল। ওখানে কর্মশালাও করেছিলাম। দেশে আসার পর করোনার কারণে আর যাওয়া হয়নি। করোনা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই ভালো। যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। গেলে নতুন খবর বলতে পারব।”
‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’র পর দেশের আর নতুন কোনো ছবিতেও দেখা যায়নি সিমলাকে। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে কয়েকটি ছবিতে কাজের প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু মনমতো হয়নি। তবে এখন অন্যভাবে ভাবছি। আমাকে কেন্দ্র করেই যে ছবি বানাতে হবে, তা নয়। তবে আমার সঙ্গে চরিত্রটি মানানসই হয়, এমন গল্প পেলেই কাজ করতে পারি। অপেক্ষায় আছি, দেখা যাক কী হয়।’
রুবেল আনুশ ২০১৪ সালের আগস্টে শুরু করেছিলেন ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’। ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন মনিরা মিঠু, সোহেল খান, নোভাই নোভিয়া, এ কে আজাদ সেতু, শিমুল খান প্রমুখ।