বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ০৯:১১ অপরাহ্ন

ওমিক্রন ডেল্টার চেয়ে ৪ গুণ বেশি সংক্রামক: গবেষণা

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ডেল্টা ধরনের চেয়ে ৪.২ গুণ বেশি সংক্রামক বলে জানিয়েছেন জাপানের এক বিজ্ঞানী। দক্ষিণ আফ্রিকার গুটেং প্রদেশে (প্রথম ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার স্থান) ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত পাওয়া জিনোম ডেটা বিশ্লেষণ করে করা এক গবেষণায় তিনি এই তথ্য পেয়েছেন বলে জানান। আর এই তথ্যের মধ্য দিয়ে ওমিক্রন যে অতি সংক্রামক আশঙ্কা করা হচ্ছিল তাই যেন প্রমাণ হলো। গবেষণাপত্রটি এখনো কোনো পিয়ার রিভিউ জার্নালে প্রকাশিত হয়নি।

হিরোশি নিশিউরা নামের ওই বিজ্ঞানী কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের হেল্থ অ্যান্ড ইনভাইরনমেন্টাল সাইয়েন্সের প্রফেসর এবং জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। এ ছাড়া তিনি সংক্রামক ব্যাধির গাণিতিক মডেলিংয়ে বিশেষজ্ঞ। খবর ব্লুমবার্গের।

বুধবার জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তিনি এই তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ওমিক্রন অতি সংক্রামক এবং এটি মানুষের প্রকৃতিগত ও টিকা দিয়ে যে ইমিউনিটি সৃষ্টি করা হয় উভয়কেই ফাঁকি দিতে পারে।

এদিকে হিরোশি নিশিউরা যে পদ্ধতি অনুসরণ করে ওমিক্রনের ডেটা বিশ্লেষণ করেছেন, গত জুলাইয়ে টোকিও অলিম্পিকের আগে একই বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে ডেল্টা ধরন নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। ওই গবেষণার পর ডেল্টার সংক্রমণ সক্ষমতা নিয়েও পূর্বাভাস দিয়েছিলেন তিনি। বিশ্ব দেখেছে ডেল্টা কতটা সংক্রামক ছিল। তার ওই গবেষণাটি ইউরোসার্ভিল্যান্স মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছিল।

করোনার নতুন এই ধরনটি শনাক্তের পর থেকেই বিশ্বব্যাপী আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটি বোধহয় বিশ্বকে ডেল্টার চেয়ে বেশি বিপর্যস্ত করে দিতে পারে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্র্ক করেছে এটি বিশ্বকে ‘ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির’ দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে ধরনটি দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্তের পর সংক্রমণ বাড়লেও পরিস্থিতি এমন হয়নি যে দেশটির হাসপাতালগুলো রোগীতে উপচে পড়ছে। আর এটিই আশা জাগাচ্ছে যে, ওমিক্রনে বোধহয় কেবল মৃদু অসুস্থতা তৈরি করে। চলতি সপ্তাহে ফাইজার অ্যান্ড বায়োএনটেকও বলেছে, তাদের কোম্পানির বুস্টার ডোজ ওমিক্রনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতাকে মজবুত করবে।

মহামারি শুরুর পর থেকে ডব্লিউএইচওর উদ্বেগ তৈরি করা পাঁচটি ধরনের চেয়ে ওমিক্রন সবচেয়ে ভিন্নধর্মী বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের শত শত বিজ্ঞানী নতুন এই ধরনের প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, দুই সপ্তাহ আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্তের পর দেশটিতে দ্রুত সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়ে দৈনিক প্রায় ২০ হাজার করে সংক্রমিত হয়েছে। ব্লুমবার্গ ভ্যাকসিন ট্র্যাকারের হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে মাত্র ২৬ শতাংশ মানুষ ডাবল ডোক টিকা দেওয়া আছে। তারপরও ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার আগের সপ্তাহগুলোতে করোনা শনাক্তের হার কম ছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com