শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:১৭ অপরাহ্ন

ওটিটি ঘিরেই ভাবনা পরিচালকদের

২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে করোনাজনিত কারণে সিনেমাহলে দর্শক খুব একটা ভিড়ছে না। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কয়েক দফায় সিনেমা হল খুলে দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি। পরিচালক-প্রযোজকরা ভিড় জমাচ্ছেন ওটিটি প্ল্যাটফর্মের দিকে। তবে প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের ওটিটি বাজারের ওপর কতটা ভরসা করা যায়? এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরের কথা হয় কয়েকজন চলচ্চিত্র পরিচালকের সঙ্গে।

নির্মাতা অমিতাভ রেজা বলেন, ওটিটির ওপর পুরোপুরি ভরসা করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের দর্শকদের বিহেভিয়ার এখনো পরিবর্তন হয়নি। এটার জন্য সময় লাগবে। আরও অপেক্ষা করতে হবে। আর আমার রিকশা গার্ল সিনেমাহলে মুক্তি পাবে কি না, সেটাও নির্ভর করছে কিছু বিষয়ের ওপর। বড় বড় ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কথা চলছে। বড় কোনো ওটিটি যদি চায় সিনেমাটা শুধু ওটিটিতেই আসবে সিনেমাহলে যাবে না, তাহলে সিনেমাহলে আসবে না। কথাবার্তা ফাইনাল হলেই তখন বলা যাবে যে এটা সিনেমাহলে আসবে কি না?

নূরুল আলম আতিক বলেন, গত দুই বছরে করোনার কারণে অনলাইনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। অনলাইন কেনাকাটা বা পণ্য কেনাবেচার গল্প কিন্তু অনলাইনেই হচ্ছে। এই সময়ের ভেতরে কিন্তু ওটিটির ওপরও একটা নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। এটা একটা দিক। আবার গ্লোবাল পরিবর্তনের পার্ট হিসেবেও ওটিটির একটা চাহিদা দাঁড়িয়ে গেছে। আর ভরসা বা নির্ভর করা আলাদা বিষয়। আমার মত হচ্ছে, একটা অন্ধকার ঘরে বসে পুরোটা সময় মনোযোগ দিয়ে সিনেমা দেখার আবেদনটা অন্য রকম। আর অন্ধকারে সিনেমা দেখে ঘর পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার ব্যাাপারটা অন্য রকম। আর ওটিটির ওপর ভরসার কথা যদি বলেন, তাহলে বলব যে নতুন একটা প্ল্যাটফর্ম আসছে। আমরা সেই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হব। তবে সিনেমাহলে যাওয়ার ব্যাপারটা শিগগিরই কিন্তু ফুরিয়ে যাচ্ছে না বা যাবে না।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন সুমন বলেন, করোনার কারণে সিনেমাহলে মানুষ এখন যাচ্ছে না। সিনেমাহলে না যাওয়াটাই এখন মানুষের অভ্যাস হয়ে গেছে। যেহেতু অভ্যস্ততা একটা বড় বিষয়। স্বাভাবিক কারণেই এই অভ্যাসটা পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওটিটি নিয়েও কিছুটা দ্বিধা রয়েছে। কারণ আমাদের দেশ অতটা উন্নত না। আমাদের অনেক দর্শকই বোঝেন না কীভাবে অ্যাপ নামিয়ে সিনেমা দেখবেন। শিক্ষার অভাব আছে। স্বাভাবিকভাবেই ওটিটির হিউজ বাজারটা আমাদের দেশে তৈরি হতে সময় লাগবে। আর এটাও ঠিক আগের মতো মানুষের টাকাপয়সা খরচ করে, সময় নষ্ট করে সিনেমাহলে যাওয়ার মতো অত সময় এখন নেই। আর প্রযুক্তিও এখন চেঞ্জ হয়ে গেছে। প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করা ছাড়া আমাদের আবার উপায়ও নেই। সবই যেহেতু এখন হাতের মুঠোয় চলে এসেছে, ফলে আস্তে আস্তে পরিচালক-প্রযোজকরা ওটিটিনির্ভর হয়ে উঠবেন। এটা অটোমেটিক্যালি ঘটে যাবে। সাদাকালো থেকে রঙিনÑধীরে ধীরে আরও চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি। ফলে পরবর্তী গন্তব্য অবশ্যই ওটিটি।’

পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক বলেন, করোনার কারণে যেভাবে সিনেমার মুক্তি পিছিয়ে যাচ্ছে এবং ভালো ছবিগুলো ব্যবসা করতে পারছে না। সেই জায়গা থেকে প্রফেশনাল নির্মাতাদের অবশ্যই ওটিটির জন্য কাজ করতে হবে। টিকে থাকার জন্যই এটা করতে হবে। পরিস্থিতি ভালো হলে তখন আবার সিনেমাহলের জন্য নির্মাণে ফিরে আসা যাবে। তবে এযাবৎ আমার যে কয়টা সিনেমার কাজ শেষ হয়েছে, সেগুলো সিনেমা হল ছাড়া চালানো সম্ভব নয়। সেগুলো নির্মিতই হয়েছে সিনেমা হলের জন্য।

পরিচালক সৈকত নাসির বলেন, ওটিটিতে সিনেমা মুক্তি দেওয়া নিয়ে এখনো কিছু ভাবছি না। তবে ওয়েব সিরিজ বানাচ্ছি ওটিটির জন্য। যদি কোনো ওটিটি পুরো সিনেমা কিনে নিয়ে অরিজিনালি রিলিজ করে, তাহলে ওটিটিতে আমার সিনেমা মুক্তির ব্যাপারে ভাবব। আর ওটিটির ওপর পরিচালকরা পুরোপুরি ভরসা করবে কি না, সেই সময়টা এখনো আসেনি, আরও অপেক্ষা করতে হবে।’

তরুণ নির্মাতা রায়হান রাফি বলেন, ওটিটির ওপর ভরসার কিছু নেই। পৃথিবীটাই এখন চেঞ্জ হয়ে গেছে। ওটিটিতেও ধীরে ধীরে নির্ভরতা বাড়বে। তবে সিনেমা হলে সিনেমা দেখার মজাটা আলাদা। করোনার কারণে পুরো পৃথিবীই যেহেতু বদলে যাচ্ছে, ফলে এখন কিছুদিন ওটিটিতে ভরসা করা ছাড়া উপায় নেই। এটা ঠিক যে এখন অ্যাট লিস্ট মানুষ টাকা দিয়ে ওটিটিতে সিনেমা দেখছে বা আমরা দেখাইতে পারতেছি। আপনি যদি খোঁজখবর নেন এখন সবাই প্রচুর শ্যুটিং করছে। ভালো ভালো কাজ হচ্ছে। এগুলো নিশ্চয় কোনো না কোনো প্ল্যাটফর্মে দেখানো হবে। ওটিটি আসার ফলে এই জায়গাগুলো তৈরি হয়েছে। ভালো ভালো কাজ আমরা দেখাতে পারছি। এটার জন্য সাধুবাদ দিতে হবে। আবার কিছু চলচ্চিত্র আছে যেগুলো হল ছাড়া দেখানো সম্ভব হবে না। আমার চলচ্চিত্র দামাল বা পরানের কথা যদি বলেন তাহলে এই ছবি দুটি সিনেমাহল ছাড়া দেখানো সম্ভব হবে না। আমি জীবনেও এটা ওটিটিতে দেব না। এটা সিনেমাহলের জন্যই বানিয়েছি। এটা দুঃখজনক যে করোনার জন্য এই সিনেমাগুলো মুক্তি দিতে পারছি না। ফলে সিনেমাহলের বিকল্প কখনো ওটিটি হতে পারে না। ওটিটি আলাদা আরেকটা প্ল্যাটফর্ম। ওটিটির দর্শকরা টাকা দিয়ে সিনেমা দেখে তারা খুবই স্মার্ট দর্শক। ফলে ওটিটির জন্য সিনেমা বানালে সেটা মাথায় রাখতে হবে। তবে এটা ঠিক, করোনার কারণে এই মুহূর্তে পরিচালক-প্রযোজকদের ওটিটির জন্যই কাজ করতে হবে বা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com