বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন
গত ৪ ফেব্রুয়ারি দাম্পত্য জীবনের ৫২ বছর পার করলেন প্রখ্যাত অভিনেতা আবুল হায়াত। তারও আগে থেকে তিনি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। এখনো অভিনয় নিয়েই তার ব্যস্ততা। আদ্যোপান্ত অভিনয়ের মানুষ আবুল হায়াত জীবন নিয়ে অনেক সুখী। তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পেছনে ফিরে তাকালে এখন মনে হয়, এই বেশ ভালো আছি। প্রতিটি মানুষের জীবনেরই কিছু না কিছু চড়াই-উৎরাই থাকে। জীবন সংগ্রাম থাকে। আমারও শুরুর দিকে ছিল। অর্থনৈতিক টানাপড়েন ছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমি অনেক বড় অসুখের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। সেই সময়টা আমার পরিবারের জন্য ছিল সবচেয়ে কঠিন সময়। তবে এরপর জীবনটাকে গুছিয়ে নিতে পেরেছিলাম। আর আমাকে সেভাবে স্ট্রাগল করতে হয়নি। সবার দোয়ায় এখনো সুস্থ আছি, ভালো আছি। নিজের ভালোলাগার কাজ অভিনয়, সেটি করে যেতে পারছি, এর চেয়ে বেশি আর কী চাওয়ার থাকতে পারে?’
একই সুর আবুল হায়াতের স্ত্রী ও দেশের দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত ও নাতাশা হায়াতের মা শিরিন হায়াতের। দাম্পত্যের ৫২ বছর পার করে জীবনকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, জীবন অনেক সুন্দর। আমি অনেক সুখী একটা মানুষ। আমার সৌভাগ্য যে, হায়াতের মতো জীবনসঙ্গী পেয়েছি। আমার মেয়ে দুটিও ভীষণ লক্ষ্মী। বাবার কার্বনকপি বলতে হবে দুজনকেই। সবাইকে নিয়ে আমি ভালো আছি। শুধু পৃথিবী যে করোনার জ¦রে ভুগছে, সেটির নিষ্পত্তি হলে আর কোনো সমস্যা থাকত না।’ বড় মেয়ে বিপাশা হায়াত এখন স্বামী-সন্তান নিয়ে সুদূর আমেরিকায়। কতটা মিস করেন? এই প্রশ্নের জবাবে শিরিন হায়াত বলেন, ‘আসলে সন্তানের ভালোটাই চায় সব বাবা-মা। আমার সন্তান তার সন্তানদের ভালোর জন্য এখন দেশ থেকে দূরে। তাই এ নিয়ে আমার মন খারাপের কিছু নেই। তাছাড়া এখন প্রযুক্তির কল্যাণে সকাল দুপুর হোয়াটসঅ্যাপে কথা হচ্ছে। তাদের দেখতে পাচ্ছি, গল্প করছি। তবে মা হিসেবে সন্তান দূরে থাকলে এক ধরনের মনবেদনা তো হয়ই। কিন্তু আমি সেটা কখনোই প্রকাশ করি না। আমার মন খারাপ দেখলে তাদের দিনটাও যে ভালো যাবে না!’
স্বামীর কোন দিকগুলো সবচেয়ে ভালো, তাও জানালেন আবুল হায়াতের স্ত্রী, ‘ওর সততা আমাকে মুগ্ধ করে। সম্পর্কের ব্যাপারে সে অনেক বেশি শ্রদ্ধাশীল ও যতœশীল। আদর্শ স্বামী, আদর্শ বাবা। মেয়েরাও বাবার এই গুণগুলো পেয়েছে। আমি দোয়া করি, আমার মতো আমার মেয়েরাও সংসার জীবনে সারা জীবন সুখী থাকে।’ একটা সময় স্বামী ও মেয়ের নাটক দেখলেও এখন আর দেখেন না শিরিন হায়াত। বললেন, ‘এখন শুনেছি অনেক ভালো নির্মাতা এসেছে, শিল্পীরাও ভালো অভিনয় করে। কিন্তু নাটকগুলোতে প্রাণ পাই না। কোনো সামাজিক বার্তা পাই না। তাই এখন হায়াতের নাটকও আমি দেখি না। তবে সে নিজে যে নাটকগুলো লেখে এবং নির্দেশনা দেয়, সেগুলো দেখার চেষ্টা করি। সেই অয়োময়, বহুব্রীহি, একা একা, খেলার মতো নাটক আর কোথায়?’
তবে আশাবাদী আবুল হায়াত। বললেন, ‘আমি নতুনদের দিকে তাকিয়ে আছি। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে সবাই কাজ করে। তাই বেশিরভাগ নাটক খারাপ হলেও ভালো নাটকও হয়। আমার লেখা শেষ নাটক ‘আমি কান পেতে রই’ও ইউটিউবে বেশ ভালো ভিউ হয়েছে। তার মানে ভালো নাটক দেখার জন্য দর্শকও মুখিয়ে থাকে। কিন্তু খারাপের ভিড়ে ভালোটা সেভাবে আলোচনায় আসে না।’
আবুল হায়াত মাঝে দু মাস শারীরিক জটিলতার কারণে শ্যুটিং করেননি। তবে এখন অভিনয় করছেন অরুণা বিশ্বাস পরিচালিত সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘অসম্ভব’-এর। গতকাল শ্যুটিং করেছেন এফডিসির পাশে প্রিয়াঙ্কা শ্যুটিং হাউজে। এ ছবিতে তার সহশিল্পী অরুণা বিশ্বাস, সোহানা সাবা, শতাব্দী ওয়াদুদ, গাজী আব্দুন নূর প্রমুখ। তিনি অভিনয় করছেন পরিবারের কর্তার চরিত্রে যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।
প্রতিবারের মতো এবারের বইমেলাতেও এই অভিনেতার বই প্রকাশ হচ্ছে। প্রিয় প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইটি তিনটি ছোটগল্পের। নাম ‘আষাড়ে’। আবুল হায়াত বলেন, ‘এ বছর খুব বেশি লিখতে পারিনি। তবে এবার ইচ্ছা আছে আত্মজীবনীটি শেষ করার। বইমেলা না হলেও অন্য সময় পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছা।’