মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন
দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা এখন ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী কান চলচ্চিত্র উৎসবে। তার অভিনীত ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’ ছবিটির ট্রেইলার প্রকাশনার জন্যই মূলত তিনি সেখানে গেছেন। একমাত্র কন্যাসন্তান ইলহাম খুবই ছোট, তাই তাকে দেখাশুনার জন্য সঙ্গে গিয়েছেন দেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নির্মাতা ও তার স্বামী মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বঙ্গবন্ধুর এই বায়োপিকে অভিনয়ের খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই আলোচনায় তিশা। এ ছবিতে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের বড় বেলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এক কথায় এ ছবির প্রধান নারী চরিত্র তিনি। তাই কানের মতো বিশ^বিখ্যাত চলচ্চিত্রের মঞ্চে এই ছবির প্রতিনিধিত্ব করতে শুধু সুযোগ পেয়েছেন তিনি আর ছবির নায়ক আরিফিন শুভ। এতদিন এই ছবি নিয়ে তিশা খুব একটা কথা বলেননি। তবে কানে গিয়ে তিনি ‘মুজিব’ নিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটিতে। সেখানে নিজের চরিত্র নিয়ে তিশা বলেন, ‘কথিত আছে, একজন সফল পুরুষের পেছনে একজন মহীয়সী নারীর হাত থাকে। এখানে ফজিলাতুন নেছা মুজিব তেমনি একটি চরিত্র। যিনি বঙ্গবন্ধুর জীবনে পর্দার আড়ালে থেকে নানা ধরনের সহায়তা করেছেন। তিনি শুধু পরিবারের খেয়ালই রাখেননি। বঙ্গবন্ধু যখন জেল জীবনযাপন করেছেন তখন রাজনৈতিক নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও তিনি নিয়েছেন। সেটা অব্যাহত ছিল দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত। এক কথায় তিনি একজন শক্তিশালী নারী। তিনি যে দেশের জন্য অসাধারণ মহিমান্বিত কাজ করেছেন তা অনেকে জানেন না। এই ছবিটি দেখার পর সবাই বুঝতে পারবেন।’
তিশা তার নতুন কাজের খবরও প্রকাশ করেছেন। ভ্যারাইটির রিপোর্টে জানা যায়, তিনি এখন মাতৃত্বকালীন বিরতির পাশাপাশি নতুন ছবির জন্য তৈরি হচ্ছেন। তার নতুন ছবি হতে পারে কলকাতার একটি প্রডাকশন হাউজের ছবি। তা নিয়ে কথাবার্তা অনেক দূর এগিয়েছে।
অভিনয়ের বাইরে তিশা প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নিজের স্বামীর আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ ছবির মাধ্যমে। তাই শুধু অভিনয়কেন্দ্রিক কথাবার্তাই নয়, তিশা জানিয়েছেন তার প্রযোজক হিসেবে নতুন কাজের খবরও। তার ভাষ্য, ‘ফারুকীর নতুন ছবিতেও আমি প্রযোজক হিসেবে থাকছি। ছবিটি আমার প্রাণের খুব কাছের!’
তিশা বর্তমান বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে দারুণ আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের একের পর এক ছবি বিদেশের মাটিতে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ‘রেহানা মরিয়ম নূর’, রুবাইয়াত হোসেনের ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’, আবু শাহেদ ইমনের ‘জালালের গল্প’, অমিতাভ রেজা চৌধুরীর ‘রিকশা গার্ল’, রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের ‘নোনা জলের কাব্য’, বিজন ইমতিয়াজের ছবিটি নতুন আশা জাগিয়েছে। আমি মনে করি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। একদল তরুণ নির্মাতা দারুণ আইডিয়া নিয়ে ভিন্ন ধাঁচের কিছু ছবি নির্মাণ করছেন।’