সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০৯:০২ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

সরগরম চলচ্চিত্রপাড়া

চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ডিপজলের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক ওমর সানীকে পিস্তল দিয়ে গুলি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। জায়েদ খানের এমন আচরণে বিস্মিত ও হতবাক ওই সময় বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকা চলচ্চিত্রের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অভিনয়শিল্পী। তবে জায়েদ খান এ ঘটনাকে মিথ্যা দাবি করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন চলচ্চিত্রশিল্পী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যতদূর জানতে পেরেছি মৌসুমীর সঙ্গে নাকি জায়েদ খান খারাপ আচরণ করেছেন। এটা নিয়ে জায়েদের ওপর ওমর সানী ভীষণ বিরক্ত ছিলেন। খারাপ ব্যবহার করার কারণে ডিপজলের কাছে বিচারও দিয়েছিলেন। ডিপজল বলেছিলেন, “থাক, বাদ দাও। মারামারি করার দরকার নাই। সামনে জায়েদ আর মৌসুমীকে কোনো ডিস্টার্ব করবে না। মৌসুমীর কাছেও যাবে না।” তবে ডিপজলের এমন সমাধান ওমর সানী মেনে নিতে পারেননি। কয়েক দিন ধরে তাই জায়েদ খানকে খুঁজছিলেন। ধরেই নিয়েছিলেন, ডিপজলের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে তাকে পাওয়া যাবে। অনুষ্ঠানে ওমর সানী ঢুকেই সরাসরি জায়েদ খানকে চড় মারেন। তখন ডিপজলসহ চলচ্চিত্রের কয়েকজন অভিনয়শিল্পী সোফায় বসা ছিলেন। ওমর সানী তখন বলেন, “তোরে (জায়েদ) না নিষেধ করছি আমার বউরে (মৌসুমী) ডিস্টার্ব করবি না। অসম্মান করে কথা বলবি না।” সানীর চড় খাওয়া ও এমনসব কথা শুনে জায়েদ খান কোমর থেকে পিস্তল বের করে বলেন, “গুলি করে দেব।” জায়েদের পিস্তল বের করা দেখে ডিপজল উঠে দাঁড়ান। বলেন, “এই, আমার বিয়ের অনুষ্ঠান। এত বড় অনুষ্ঠান। এত মানুষ, এসব কী।” এরপর অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে যান ওমর সানী। সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনা ঘটেছে। ওমর সানী বের হওয়ার আধা ঘণ্টা পর জায়েদ খানও বের হয়ে যান।’

ঘটনার ব্যাপারে চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক ডিপজল বলেন, ‘ওই একটু ধাক্কাধাক্কি হয়েছে দুজনের মধ্যে। এটুকুই। ওমর সানীকে মারার জন্য জায়েদ খান পিস্তল বের করেছে কি না আমি এসব জানি না। এসব ব্যাপারে আমার কোনো কিছু বলার ইচ্ছা নেই। বলতেও চাই না।’ তবে তিনি বলেন, ‘হয়তো আগে থেকে তাদের মধ্যে রাগারাগি ছিল, এ কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। আমি বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, এর বেশি কিছু জানি না।’

বিষয়টি নিয়ে জায়েদ খান বলেন, ‘সবাই বলছে আমার সঙ্গে নাকি কথাকাটাকাটি হয়েছে, তাই চড় মেরেছেন ওমর সানী। একদমই এমন কিছু হয়নি, এসব মিথ্যা কথা। আমি চড় খেয়েছি, পিস্তল বের করেছিÑ কে বলেছে বলেন, আমি তার সঙ্গে কথা বলব। আমি তাদের মুখে এটা শুনতে চাই।’

এরই মধ্যে এ ঘটনায় জায়েদ খানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওমর সানী। সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনের হাতেই লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। এরপর গতকাল রবিবার চলচ্চিত্রের জ্যেষ্ঠ অভিনয়শিল্পী-পরিচালক ও প্রযোজকদের পরামর্শ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন বলে জানিয়েছেন ওমর সানী। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় যেকোনো সংকটে চলচ্চিত্রের মুরব্বিদের পরামর্শ নিই। এবারও তাই করেছি। সবাইকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এদিকে গতকাল দুপুরে নিজের ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টে ওমর সানী লিখেছেন, ‘আমি ততক্ষণ নীরব থাকি, যতক্ষণ না পর্যন্ত আমার আত্মসম্মানে আঘাত না লাগে। জায়েদ খান শুধু মৌসুমীকে নয়, আরও অনেক মেয়েকেই বিরক্ত করেন। জায়েদের কারণে অনেক মেয়ের সংসারও ভেঙেছে।’ এরপর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি জায়েদ খানকে চড় মেরেছি। কিন্তু কী কারণে মেরেছি, সেটাও তো জানতে হবে সবাইকে। আর চড় মারার পর আমাকে মারতে সে পিস্তল বের করবে! কত্ত বড় সাহস! অনেক দিন ধরে জায়েদের বেয়াদবি লক্ষ করছিলাম। তারপর বিয়েতে দেখার পর, কাছে গেছি। এরপর কষে চড় মেরেছি। চড় মারার পর সে পিস্তল বের করে বলে, “গুলি করে দেব কিন্তু।” ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি, মানুষের ক্ষতি করতে করতে জায়েদের সাহস বেড়ে গেছে। কেউ কথা বলছিলেন না। চড় দিয়ে আমি না হয় শুরু করেছি।’ ওমর সানী আরও বলেন, ‘জায়েদ খান তো সবসময় পিস্তল নিয়ে ঘোরে। আমার কথা হচ্ছে, ইন্ডাস্ট্রিতে ওর অত্যাচার সহ্য করতে করতে অনেকেই বিরক্ত। অনেক প্রমাণ আছে, বহু অভিযোগ আছে তার নামে।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com