সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন
কিংবদন্তিতুল্য চিত্রনায়ক আলমগীরের জীবনে আজ একটি বিশেষ দিন। কেননা আজ দেশের এই চিরসবুজ নায়কের অভিনয় জীবনের সুবর্ণজয়ন্তী পূর্ণ হচ্ছে। ৫০ বছর আগে, ১৯৭২ সালের ২৪ জুন আলমগীর কুমকুম পরিচালিত ‘আমার জন্মভূমি’ চলচ্চিত্রের জন্য প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সে কারণে এই দিনটি আলমগীর ভক্ত এবং বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য বিশেষ হয়ে থাকবে।
৫০, দীর্ঘ সময়। কিন্তু স্বয়ং আলমগীর কোনোভাবেই এই ভারিক্কি বহন করতে চান না। তাইতো তিনি বলেন, ‘এখনো তো অনেক কাজ করার বাকি। এখনো ভালো ছবি করার ইচ্ছা বা আকাক্সক্ষা সমানভাবে মনেপ্রাণে লালন করি। আরও কিছু ভালো ছবিতে কাজ করতে চাই, আরও কিছু ভালো ছবি নির্মাণ করতে চাই।’ বিখ্যাত এই নায়ক বাংলাদেশের অভিনেতাদের মধ্যে সর্বাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এই হিসাবে তার ধারেকাছেও কেউ নেই। সম্প্রতি দেশের গ-ি পেরিয়ে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী টেলিসিনে অ্যাওয়ার্ডের ১৯তম আসরে পেলেন আজীবন সম্মাননা। সেই পুরস্কারের মঞ্চেও কৌতুকের সুরে আলমগীরের একই ভাষ্য, ‘আজীবন সম্মাননা দিয়ে কি বিদায় দিয়ে দিচ্ছেন! আমি আরও কিছু কাজ করতে চাই।’
তবে দীর্ঘ ৫০ বছর সফলতার সঙ্গে পার করে আসার এই দুর্গম, ঘটনাবহুল ও রঙিন যাত্রা নিয়ে তিনি মনেপ্রাণে তুষ্ট। তাই তো গর্বের সঙ্গে সে কথা উচ্চারণও করেন। তিনি বলেন, ‘আমি চলচ্চিত্রশিল্পের নানা বাঁক দেখেছি। তবে আমি সৌভাগ্যবান যে, চলচ্চিত্রের স্বর্ণালি সময়ে আমি অভিনয় জগতে এসেছিলাম। এত ভালো ভালো নির্মাতা, প্রযোজক, সহশিল্পী, সর্বোপরি চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে পেয়েছি। দর্শকের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। তারা ৫০ বছর ধরে আমাকে ভালোবাসা দিচ্ছেন, প্রতিটি কাজে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন।’
এই অভিনেতার অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে তেমন কোনো অসন্তোষ নেই। তবে এখনো চান, আগের চেয়ে আরও ভালো কাজ করতে। নিজেকে প্রতিনিয়ত ছাপিয়ে যেতে। দেশের তরুণ প্রজন্মের নির্মাতা, শিল্পী, কলাকুশলীদের মাঝে তিনি সম্ভাবনা দেখেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সব বাধা, ঝড়-ঝঞ্ঝা পেরিয়ে একদিন আমাদের চলচ্চিত্র জগৎ আবারও স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। সেদিনের সাক্ষীও হতে চান তিনি।
প্রখ্যাত এই নায়কের সুবর্ণজয়ন্তীতে মাছরাঙা টেলিভিশনে রয়েছে বিশেষ আয়োজন। এ টেলিভিশনের ‘রাঙা সকাল’ অনুষ্ঠানে আজ উদযাপন করা হবে তার সুবর্ণজয়ন্তী। এই বিশেষ পর্বে নায়ক আলমগীর জানিয়েছেন, তার মুঠোফোনের ওয়ালপেপারে সবসময়ই তিনি প্রথম সিনেমা ‘আমার জন্মভূমি’র স্থিরচিত্র রেখে দেন। নায়কের ভাষায়, ‘আমি সিনেমা খাই, সিনেমা পান করি, সিনেমাতে ঘুমাই, সিনেমাই আমার সব’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘আমার জন্মভূমি’ এবং ‘দস্যুরানী’ নামের দুটি ছবি একসাথে মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭৩ সালের ২৪ অক্টোবর, ঈদের দিন। মাত্র ২২ বছর বয়সে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। বাকি ৫০ বছর চলচ্চিত্রের সাথেই আছেন। জীবনের সিংহভাগ সময় অভিনয়কে দেওয়ার পরও নায়ক আলমগীরের নিজেকে নিয়ে মন্তব্য, ‘এখনো সুঅভিনেতা হতে পারিনি। কারণ শিল্পী হওয়া এত সহজ নয়। অভিনয়ে পূর্ণমান ১০০-তে নিজেকে পাস মার্কস দিতে রাজি; এর বেশি নয়।’
৯ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ আজীবন সম্মাননা পদক পাওয়ার রেকর্ড নায়ক আলমগীরেরই রয়েছে।
১৯৮৫ সালে প্রথম ‘মা ও ছেলে’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ টানা ৪ বছর শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ে নতুন এক রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি, যা আজও কেউ ভাঙতে পারেনি। দুই ঘণ্টাব্যাপী ‘রাঙা সকাল’-এর আজকের বিশেষ এই পর্বটি প্রচারিত হবে সকাল ৭টা থেকে ৯টায়। রুম্মান রশীদ খান ও লাবণ্য’র উপস্থাপনায় মাছরাঙা টেলিভিশনের এই আয়োজনটি প্রযোজনা করেছেন জোবায়ের ইকবাল।