সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন
বেসরকারি টিভি চ্যানেল সম্প্রচারে আসার পর বিটিভির গন্ডি এড়িয়ে আলাদাভাবে নাটকের বলয় গড়ে ওঠে। যদিও শুরুতে মানসম্মত নাটকের দিকেই চ্যানেলগুলোর নজর ছিল। কিন্তু দর্শক সমাগম বৃদ্ধি করতে ভিন্ন কিছুর দিকে নজর দেয় তারা। বলা যায় তখন থেকেই নাটকের গুণগত মান পরিবর্তন হতে শুরু করে। ‘কমেডি’ নামে আলাদা ঘরানার নাটক নির্মিত হতে থাকে। দর্শক চাহিদার কথা বলে চ্যানেলগুলোও এ ধরনের নাটকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। সে সময়কার একটি জনপ্রিয় কমেডি নাটক হলো ‘রঙের মানুষ’।
অবশ্য এ নাটকটিতে কমেডি থাকলেও ছিল না ভাঁড়ামির আশ্রয়। যার কারণে সব ধরনের দর্শককে আকৃষ্ট করে নাটকটি। এটিকে সামনে রেখে এরপর অসংখ্য কমেডি নাটক নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ নাটকেই কমেডির নামে অযথা ভাঁড়ামির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে অনেক অভিনেতার নামের আগে যুক্ত হয়েছে ‘কমেডি’ শব্দটি। এর মধ্যে জনপ্রিয় দু-একজন অভিনেতাও আছেন। অনেক প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় শিল্পীরাও এই ভাঁড়ামির জন্য অভিনয় কমিয়ে দিয়েছিলেন।
আশার কথা হলো, এসব ভাঁড়ামি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে সিরিয়াস গল্পের নাটকই এখন নির্মিত হচ্ছে নিয়মিত। এ ধরনের নাটকের প্রতি শিল্পীদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকের আগ্রহও লক্ষণীয়। সংশ্লিষ্টদের অভিমত, দর্শক ধীরে ধীরে মানসম্মত সিরিয়াস গল্পের দিকেই ঝুঁকছেন এখন।
এ প্রসঙ্গে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘কমেডি নাটক বলে আমি আলাদা কিছু বলতে চাই না। একটি নাটকের মধ্যে হাসি-কান্নাসহ অনেক কিছুই থাকতে পারে। কিন্তু তার পরিমিতি বোধটাই আসল। আমিও কমেডি নাটকে অভিনয় করেছি, কিন্তু সেগুলোতে ভাঁড়ামি ছিল না। দর্শকদের বিনোদিত করার জন্য অভিনয় করি, হাসানোর জন্য নয়। আমি কিন্তু কমেডিয়ান নই, আমি অভিনেতা। দর্শককে হাসানোর জন্য কমেডির নামে ভাঁড়ামি দিয়ে নাটক নির্মাণ করবে, আমি এর পক্ষপাতী নই। নাটকের মধ্যে সুস্থ-সুন্দর একটি গল্প থাকবে। নাটক যেহেতু একটা জীবনের কিংবা মুহূর্তের গল্প। তাই সেখানে সবকিছুই থাকতে পারে। প্রতিদিনের জীবনযাপনে তো অনেক কিছুই থাকে। সেখান থেকে হাসি আর ভাঁড়ামি দিয়ে নাটক নির্মাণ করলে তো হবে না। এভাবে করতে গিয়ে নাটকের বারোটা বাজিয়ে দেওয়া হয়।’