সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন
বরেণ্য অভিনেতা, নির্মাতা ও লেখক আবুল হায়াত। সত্তর দশক থেকে এখন পর্যন্ত টিভি নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপন সব মাধ্যমেই সরব রয়েছেন। পেয়েছেন একুশে পদকসহ নানা সম্মাননা। আজ শিল্পকলায় মঞ্চস্থ হবে তার লেখা নাটক ‘শোধ’। সমসাময়িক বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি
শোধ…
‘শোধ’ নাটকটি লিখেছিলাম অনেক আগেই। টিভি নাটক ছিল। পরে মনে হলো এটি মঞ্চের জন্য যোগ্য। এটি সামন্ততান্ত্রিকের বিরুদ্ধে লেখা নাটক। অত্যাচারী ও অত্যাচারিতের কাহিনী। বিষয়টি নাটকীয়ভাবে তুলে ধরেছি। সমাজের নানা সমস্যা রয়েছে গল্পে। শিল্পকলা একাডেমির মূল মিলনায়তনে আজ নাটকটির মঞ্চায়ন হবে। স্টেজ ওয়ান ঢাকার প্রযোজনায় নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন ডমেনিক গোমেজ।
আত্মজীবনী…
টিভি নাটকের মূল্যায়ন…
আমি সব ইতিবাচক হিসেবেই দেখতে চাই। কিন্তু টিভি নাটকের এখন যে কোয়ালিটি তা দেখে খুব কষ্ট পাই। আমরা এই পেশায় একটা আকাক্সক্ষা নিয়ে এসেছি। তরুণ প্রজন্ম নিজেদের পেশা গড়তে চায় এখানেই। তারা ভালো কাজ করতে চেয়েও পারছে না। তাদের বাধা অনেক। অর্থগত বাধাই প্রধান। মিডিয়ায় যারা নাটক প্রযোজনা করেন, কিংবা চ্যানেলে যারা নাটক প্রচার করেন, তারা যদি সুস্থ নাটকের জন্য সুষ্ঠু বাজেট না দেন, তাহলে ভালো কাজ করা সম্ভব নয়। আমরা যে ভালো নাটক বানাতে পারি, তার প্রমাণ দিয়েছি। এখন ওটিটিতে আন্তর্জাতিক মানের কাজ হচ্ছে।
জন্মদিন…
গত সপ্তাহে ছিল আমার জন্মদিন। মজার বিষয় হলো, আমার আর আমার নাতনি, নাতাশার বড় মেয়ে শ্রীষার জন্মদিন একই দিনে। নাতনির ১৩ আর আমার ৭৯তম জন্মদিন। যে জন্য জন্মদিনের আনন্দ হয় দ্বিগুণ। জন্মদিনের প্রথম প্রহরে কেক কাটা হয়। পরদিন নিজেদের মধ্যে আলাদাভাবে দিনটি উদযাপন করি। ছোটবেলা আমার জন্মদিন হয়েছে বলে মনে পড়ে না। রেওয়াজ তখন ছিল না। ওই দিন দোয়া-দরুদ পড়তেন বাবা-মা। আমাদের ভাগনি-ভাগনেদের জন্মদিনগুলো দেখতাম, বেশ ঘটা করে উদযাপন হতো। আমার জন্মদিন উদযাপিত হয় বুড়ো বয়সে এসে।
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি…
আমি যতটুকু করতে পারি, তার চেয়ে বেশি করেছি। যা চেয়েছি, তার চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছি। সাধারণ মানুষের ভালোবাসার কোনো অন্ত নেই জীবনে। আমি অত্যন্ত ভাগ্যবান, শিশু থেকে বৃদ্ধসবাই আমাকে ভালোবাসেন। এই ভালোবাসাই জীবনের সেরা পুরস্কার। যত পুরস্কারই পাই না কেন এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর নেই।