রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ন
খ ম খুরশিদ পরিচালিত সরকারি অনুদানের ছবি ‘জয় বাংলার ধ্বনি’তে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল। এ ছবির নায়ক নিরব হোসেন। গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি চরিত্রে অভিনয় করবেন প্রখ্যাত অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর। নিরব আর সুনেরাহকে নিয়ে বেশকিছু খবরও প্রকাশিত হয়। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের আগেই ছবিটি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। বিষয়টি এখন সিনেমায় আলোচিত ঘটনা। ছবি ছাড়ার কারণ প্রসঙ্গে সুনেরাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গল্পটা পড়ে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু চিত্রনাট্য নিয়ে আমি সন্তুষ্ট ছিলাম না। এরপর চিত্রনাট্য নিয়ে আমার অভিমত জানাই। যেমন, দুই সময়ের চরিত্রে আমাকে দেখানো হবে তরুণী ও বৃদ্ধ বয়সের। আমাকে কতটা বৃদ্ধ দেখানো সম্ভব তা নিয়ে কনভিন্সড ছিলাম না। উনি বলেছিলেন মেকআপ দিয়ে করবেন। আমি বললাম, গ্রাফিকসের সাহায্য নিতে হবে মনে হচ্ছে। উনি তাড়াহুড়া করে বলে দিলেন, ‘সব করে দেব। এখন যত দ্রুত সম্ভব আপনার সাইন লাগবে। এটা সরকারি প্রজেক্ট, কিছু প্রসেস আছে।’ আমি একটি হাতে লেখা স্ট্যাম্পে সাইন করে দিই। এরপর তিনি চিত্রনাট্য সংশোধন করে পাঠান। কিন্তু সংশোধিত চিত্রনাট্য পড়েও আমার ভালো লাগেনি। তাই মনে হলো, শ্যুটিংয়ে যাওয়ার আগেই যত দ্রুত সম্ভব তাকে জানাই যে ছবিটা আমি করছি না। তা ছাড়া পরিচালকের কথাবার্তা, আচার-আচরণে মনে হয়েছে আমি তার সঙ্গে কাজ করতে পারব না। অভিনয়টা একটা আর্ট ফর্ম। এখানে জোর করে কিছু হয় না।’
পরিচালককে ‘না’ বলেছিলেন কখন? কীভাবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০ অক্টোবর ছিল প্রেস কনফারেন্স। আগের রাতে আড়াইটা বাজে সিদ্ধান্ত নিলাম ছবিটা করব না। মার্জিত ভাষায় মোবাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট পাঠাই। ভাষ্য ছিল এমন, ‘ভাইয়া, ছবিটি করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু নিজেকে কনভিন্সড করাতে পারছি না। নিজে কনভিন্সড না হলে চরিত্রটার প্রতি সুবিচার করতে পারব না। আমি আপনার চেক ফেরত দেব।’ সকালে আবার ফোনে কল দিই। তিনি আমার সঙ্গে এমনভাবে চিৎকার করা শুরু করলেন! উনি তখন ভালোভাবে কথা বললে হয়তো ছবিটা করাও যেত। কিন্তু শ্যুটিংয়ের আগে তিনি যে ব্যবহারটা করেছেন। শ্যুটিংয়ে গেলে যে কী হতো! কোনোমতেই আর ছবিটা করছি না।’
এ বিষয়ে সিনেমার নায়ক নিরব বলেন, ‘আমি যত দূর জানি, সুনেরাহকে এই সিনেমার পূর্ণ স্ক্রিপ্ট পাঠানো হয়েছিল। তিনি সেই স্ক্রিপ্ট পড়ে কাজে সম্মতি জানিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। তা ছাড়া কয়েকটি গণমাধ্যমে তিনি বলেছেন, সিনেমার গল্প পছন্দ হয়েছে বলেই কাজটি তিনি করতে চান। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার মত পরিবর্তন আমাদের বিস্মিত ও বিব্রত করেছে। তবে আমরা এ নিয়ে মোটেও বিচলিত নই।’
নির্মাতা বলেছেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই সিনেমা বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মিত হচ্ছে। সেই মোতাবেক সুনেরাহর সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। সিনেমার গল্পকার দেশের একজন সাবেক মন্ত্রী। অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরের মতো ব্যক্তিত্ব স্ক্রিপ্ট পছন্দ করেছেন। সুনেরাহরও গল্প পছন্দ হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার এই আচরণ আমাকে বিস্মিত করেছে। সিনেমা নির্মাণ তো আর বন্ধ হয়ে যাবে না। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটা আমরা পরে জানাব।’
পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, উনি এখনো আশা দেখছেন আপনাকে নিয়েই কাজটা করবেন। আপনার মন্তব্য কী? সুনেরাহ বলেন, ‘আমি করবই না। আমি এমন না যে শ্যুটিংয়ে গিয়ে ফাঁসিয়েছি। আমার জন্য তার কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। আমি নিষেধ করেছি তাই তিনি জেদ ধরে বসে আছেন, আমাকে করতেই হবে! দরকার হলে জরিমানা দেব, তবু এই ছবিতে অভিনয় করব না। আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘বিপদ আসবে। উনি কোন বিপদের কথা বলেছেন আমি জানি না।’