সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানের মেয়াদ কিভাবে জানবেন, জানাল মার্কিন দূতাবাস অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো অনেক বড় ব্যাপার: টাইগার বোলিং কোচ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়া নিয়ে যা বললেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী লুট-অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হালান্ড-চেরকির জোড়া গোলে ম্যানসিটির দাপুটে জয় রোনালদোর গোলে আল নাসরের জয়, গড়লেন রেকর্ড টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের সেমিতে বাংলাদেশ এইচপি দল এআই ব্যবহার করে মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না: প্রধান বিচারপতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান

শিল্প খাতে নীরবে বেকারত্ব বাড়ছে

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং খুচরা বিক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর কাছ থেকে কার্যাদেশ কমে যাওয়ায় ছোট ও মাঝারি আকারের পোশাক কারখানাগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডলার সংকট এবং অস্থিতিশীল আর্থিক পরিস্থিতি। নানামুখী চাপ সামলাতে না পেরে মালিকরা বেশকিছু গার্মেন্টস গুটিয়ে নিয়েছেন। কেউ কেউ গোপনে ধাপে ধাপে শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই করে শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু রাখার চেষ্টা করছেন। নিয়মিত বেতনÑভাতা না পেয়ে কোথাও কোথাও শ্রমিকরাই বাধ্য হয়ে চাকরি ছাড়ছেন। এতে শিল্প খাতে বেকারত্বের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

এর ওপর তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি পণ্যের ওপর সরকারি নগদ প্রণোদনা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এর নেতিবাচক প্রভাবও শ্রমিকদের ওপর পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন হচ্ছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বড় বাজার। রাজনৈতিক কারণে ওই সব বাজার ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যেই গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি গোটা শিল্পের জন্য অশনিসংকেত। পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় অঞ্চল চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও সাভার এলাকার শিল্প কারখানার চালচ্চিত্রে যা এখনই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

গার্মেন্টস শিল্পমালিকরা জানান, বৈশি^ক মন্দায় ইউরোপ আমেরিকায় রপ্তানি কমেছে। দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। তাতে লোকসানের মুখে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো মতো টিকে আছে আরো কিছু কারখানা। নীরবে শ্রমিক ছাঁটাই অব্যাহত আছে। মাসের পর মাস বেতন-ভাতা না পেয়ে অনেক শ্রমিক গ্রামে ফিরে গেছেন। অনেকে পেশা বদল করছেন। কারখানা মালিকের কাছ থেকে পাওনা বুঝে নিয়ে সে টাকায় নিজে নিজে কিছু করার চেষ্টা করছেন অনেক শ্রমিক। ছাঁটাই কিংবা স্বেচ্ছায় শ্রমিকরা চলে যাওয়ার পর শূন্য পদ পূরণ করা হচ্ছে না। সিংহভাগ পোশাক কারখানায় নতুন নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। নতুন কারখানা চালু করা দূরে থাক বিদ্যমান কারখানাও পুরো দমে চালু রাখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বেশকিছু কারখানা গুটি কয়েক ইউনিট চালু রেখে কোনোমতে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।

চট্টগ্রাম গার্মেন্টস মালিকদের একাধিক সূত্র জানায়, ১৯৭৮ সালে সেখানে তৈরি পোশাক রপ্তানির গোড়াপত্তন হয়েছিল। এক সময় ছোট-বড় মিলিয়ে আট শতাধিক কারখানা ছিল। ’৯০-এর দশকেও দেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ৪০ শতাংশের বেশি হিস্যা ছিল চট্টগ্রামের। সেটি ধীরে ধীরে কমছে। বিজিএমইএর হিসাবে এখন চালু কারখানার সংখ্যা ৪০০। এর মধ্যে সরাসরি পণ্য রপ্তানি করে ২৯০টির মতো কারখানা। বাকিগুলো অন্যের হয়ে সাবকন্ট্রাক্টে পোশাক উৎপাদনের কাজ করে। পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত কয়েক মাসে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে গেছেন। অনেক কারখানা মালিক নীরবে শ্রমিক ছাঁটাই করেছেন। কোনো কোনো কারখানায় মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে পেশা ছেড়ে গেছেন। মাঝে মধ্যে কোনো কোনো এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে মিছিল-সমাবেশ হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্রমিকরা নীরবেই কারখানা ছেড়ে গেছেন। কোথাও কোথাও গার্মেন্টস মালিকরা শ্রমিকদের মোট পাওনার সামান্য অংশ ধরিয়ে দিয়ে শ্রমিকদের বিদায় করে দিচ্ছেন। কাজ নেই, বসিয়ে বসিয়ে বেতন দেওয়ার অবস্থাও নেই। এ অবস্থায় নিজ থেকে চলে গেছেন অনেক শ্রমিক।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com