রবিবার, ২৬ Jul ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিমান ভ্রমণ বর্জন করছে হাজারও মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন থেকে চীনের নিঙ্গবো শহরে যেতে আকাশপথে পাড়ি দিতে হয় অন্তত পাঁচ হাজার আটশ’ মাইল। যেতে আসতে খরচ পড়ে অন্তত পঁচিশশ’ ডলার। বিমানে যেতে সময় লাগে ১৫ ঘণ্টা। অন্যদিকে সেখানে ট্রেনে যেতে পাড়ি দিতে হয় তের হাজার পাঁচশ’ মাইল পথ। খরচ হয় দুই হাজার পাঁচশ’ ডলার। সময় লাগে এক মাস।

আধুনিক যুগের যে কোন মানুষই সাউদাম্পটন থেকে নিঙ্গবোতে যেতে প্রথম অপশনটাই(বিমান) বেছে নেবেন। তবে রজার টায়ার্স নামে যুক্তরাজ্যের এক ব্যক্তি সম্প্রতি গবেষণার কাজে চীনের নিঙ্গবো শহরে যেতে বেছে নিয়েছেন কঠিন পথটাই(ট্রেন)। প্রশ্ন হচ্ছে কেন তিনি আকাশ পথের স্থলে সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুলে ট্রেন ভ্রমণ বেছে নিলেন?

সংবাদ মাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রজার এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিমানের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রজার বলেন, গত বছর জাতিসংঘের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা এক ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তন রুখে দাঁড়াতে বিশ্বের হাতে সময় রয়েছে মাত্র ১১ বছর। এই ঘোষণার পর থেকেই তিনি বিমান ভ্রমণ বর্জন করেন।

শুধু রজারই নন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় বিমান ভ্রমণ বন্ধ করার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বের হাজার হাজার মানুষ। তারা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে, বিজ্ঞানীরা মানুষের স্বাস্থ্যের উপর বিশ্ব উষ্ণায়নের ধ্বংসাত্মক প্রভাব সম্পর্কে বারবার সতর্ক করেছেন সেখানে বিমান ভ্রমণের প্রশ্নই উঠে না।

গবেষণা বলছে, মানবসৃষ্ট কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে মোট যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসৃত হচ্ছে তার শতকরা দুই শতাংশের জন্য বিমান শিল্প দায়ী। যা ২০৫০ সাল নাগাদ ২২ শতাংশে গিয়ে পৌঁছাবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতে, লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে যেতে এবং আসতে বিমান থেকে মাথাপিছু যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসৃত হয় তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড়ে একজন মানুষ এক বছরে ঘর গরম রাখতে যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করেন তার সমান।

এ অবস্থায় বিমান সংস্থাগুলোতে পথে আনতেই বিমান ভ্রমণ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশ্বজুড়ে আন্দোলনকারীরা। এই আন্দোলনে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন সুইডেনের বাসিন্দারা। চলতি বছরের মে মাসে সুইডেনের রেল কর্তৃপক্ষ এক সার্ভের ফলাফলে জানিয়েছে, তাদের সার্ভেতে অংশ নেওয়া ৩৭ শতাংশ মানুষ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমানের স্থলে রেল বেঁছে নিয়েছেন। গত বছর যার পরিমাণ ছিলো ২০ শতাংশ।

সুইডেনের পরিবেশ কর্মী মাজা রোজেন বিমান ভ্রমণ বর্জন করতে মানুষকে উৎসাহিত করতে ২০১৮ সালে ‘ফ্লাইট ফ্রি’ নামের এক ক্যাম্পেইন শুরু করেন। রোজেন বলেন, তার মতে অধিকাংশ মানুষ মনে করে জলবায়ু ইস্যুতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ খু্ব বেশি কাজে আসবে না। তাই শুরুতে এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে অনীহা থাকলেও আস্তে আস্তে মানুষের মধ্যে এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ছে। ইতোমধ্যে ক্যাম্পেইনের সঙ্গে একমত পোষণ করে ১৪ হাজার মানুষ বিমান ভ্রমণ বাদ দিয়ে ট্রেন ভ্রমণে রাজি হয়েছেন।

এই সচেতনতা কেবল সুইডেন নয়, অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ছে, যার বড়ো প্রমাণ ট্রেনে করে যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা রজার টায়ার্সের সাম্প্রতিক চীন ভ্রমণ। তার দাবি এই ভ্রমণের ফলে সে ৯০ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড কম নিঃসরণ করেছে।

তবে পরিবেশবাদীরা সেই সকল ট্রেনে ভ্রমণের ব্যাপারে মানুষকে উৎসাহ দিচ্ছে যেগুলো পরিবেশ বান্ধব। তাদের বিশ্বাস মানুষ সচেতন হলে তাদের পরিবেশ রক্ষায় তাদের এই আন্দোলন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com