শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে রাঙ্গামাটিতে গরম কাপড়ের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের ফুটপাতের দোকানগুলোতে জমজমাট হয়ে উঠেছে বেচাকেনা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের কাপড়-চোপড় কেনার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
হঠাৎ শীতের তীব্রতা বাড়ায় ফুটপাতের দোকানগুলি থেকে পাহাড়ে বসবাসরত নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন এসব কাপড় ক্রয় করছে। নতুন কাপড়ের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরনো কাপড় দোকানের দিকে ক্রেতারা ঝুঁকে পড়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের বেচাকেনা। এ বছর আগেভাগেই ক্রেতার ভিড় বাড়ায় বিক্রেতারা দারুণ খুশি।
গত কয়েকদিন ধরে শীতে প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। শীত নিবারণে প্রয়োজন গরম কাপড়-চোপড়। প্রতি বছর রাঙ্গামাটি জেলা ও উপজেলাগুলো শীতের প্রকোপ একটু বেশি হওয়ায় হিমশিম খেতে হয় পাহাড়ী গরীব পরিবারের। শীতে গরম পোশাক প্রয়োজন। তাই বেশি দামে নয়, কম দামেই গরম পোশাক কেনার দিকে মানুষ ঝুঁকছেন। শীত উপলক্ষে জেলার ১০টি উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে শীতের পোশাক আমদানী ও বেচাকেনা শুরু হয়েছে। সবকিছুর দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে পোশাকের দামও। যে সকল মানুষ পেট পুরে দু’মুঠো ভাত খেতে পায় না, এ শীতে তাদের বাঁচা দায় হয়ে পড়েছে। তারপরও কাপড়-চোপড়ের অত্যধিক দাম। ফলে কোন রকমে শীত নিবারণের জন্য তারা কম মূলের কাপড় কেনার জন্য বাজারের পুরোনো কাপড়ের দোকানে ছুটছেন।
আগাম শীতেরভাব দেখেই রাঙ্গামাটির বিভিন্ন ছোট-খাটো ব্যবসায়ীরা শীতের কাপড় ওঠাতে শুরু করেছে। বিক্রিও হচ্ছে ভালো। বেচাকেনায় জমে উঠেছে পুরাতন কাপড়ের হাটে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাঙ্গামাটি জেলার কলেজ গেইট, বনরূপা, রিজার্ভ বাজার, তবলছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে বসেছে পুরানো কাপড় বেচার এসব রমরমা ব্যবসা ভ্রাম্যমাণ দোকান। সকাল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের গরম কাপড় বিক্রি হচ্ছে। এসব কাপড় ব্যবসায়ীরা ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে আমদানী করে বিক্রি করছে। যেখানে রীতিমত ভিড় করছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। দোকানীদের সাজিয়ে রাখা কাপড়ের স্তূপ থেকে চলছে পছন্দের হিড়িক। কাপড় পছন্দ হলে অথবা ঠিকটাক মতো গায়ে লাগলে শুরু হয় দোকানী ও ক্রেতাদের মধ্যে দামদর কষাকষি। দামদরে হলে নতুন ও পুরনো জ্যাকেট এবং সুয়েটার রকম গরম কাপড় কিনছেন ক্রেতারা।
রির্জাভ বাজারের ফুটপাতের মৌসুমী গরম কাপড় ব্যবসায়ী মোঃ রফিক জানায়, শীতের তীব্রতা বাড়ায় চট্টগ্রাম থেকে আমরা শীতের পুরোনো কাপড় কিনে এনেছি। একটি গাইটে ৩৫০/৪০০টি কাপড় থাকে। যার দাম ৮/৯ হাজার টাকা। তবে কাপড়ের ধরনের উপর গাইটের দাম নির্ভর করে। এবছর বেচাকেনা মোটামুটি ভালোই হচ্ছে।
গরম কাপড়ের দোকানে আসা ক্রেতা জেসমিন আক্তার ও সোনালী চাকমা ও সোনামনি চামমা জানান, শীতের তীব্রতা বাড়ায় গরম কাপড় কিনতে এসেছি। কারণ পুরাতন এসব শীতের দোকান গুলোতে সাধ্যের ভিতর অনেক ভালো ভালো মানের কাপড় পাওয়া যায়। নতুন কাপড়ের দোকানে গরম কাপড়ের দাম একটু বেশী। কিন্তু পুরাতন কাপড়ের দোকানে কম মূল্যে তা পাওয়া যায়। দামও হাতের নাগালে। তবে এবার দাম একটু বেশী মনে হচ্ছে। আর এইসব গরম কাপড়ে মাঝে মধ্যে ছেড়া থাকে তাই অনেক ক্ষন বেছে, দেখে শুনে এইসব কাপড় নিতে হয়। মাঝে মধ্যে ভাগ্যের জোরে নতুন কাপড়ের মতো গরম কাপড় পাওয়া যায়। এতে আমাদের অনেক লাভ হয়।
একদিকে সব ভাম্যমান কাপড়ের দোকানে ব্যবসা জমে উঠায় এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা যেমন খুশী তেমনী ক্রেতারা কম মূল্যে গরম কাপড় কিনে লাভবান হচ্ছেন তেমনী তারা সংসারেও সচ্ছলতা আনছেন।
নগরকন্ঠ.কম/এআর