শনিবার, ১৮ Jul ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধের শঙ্কা

এক শীর্ষ মার্কিন জেনারেল সতর্ক করেছেন যে, তালেবানরা ক্ষমতা সংহত করতে ব্যর্থ হলে আফগানিস্তানে ফের “গৃহযুদ্ধ” শুরু হবে। খবর: র‍য়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান মার্কিন জেনারেল মার্ক মিলি আফগানিস্তানের পরিস্থিতিকে ভঙ্গুর হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “আমার সামরিক অনুমান হল, গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি জানি না তালেবান ক্ষমতা সংহত করতে এবং তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে কিনা”।

জার্মানির রামস্টেইন বিমান ঘাঁটি থেকে ফক্স নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় মিলি বলেন, যদি তারা তা না করতে পারে তাহলে “আল কায়েদা বা আইএসআইএস বা অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে”।

আফগানিস্তানের শেষ প্রদেশ হিসেবে তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা পাঞ্জশির উপত্যকায় তালেবান এবং তাদের বিরোধী বাহিনী শনিবারও লড়াই করেছে।

উভয় পক্ষই পাঞ্জশির তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করছে, কিন্তু কেউই তাদের দাবির পক্ষে চূড়ান্ত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। গত সপ্তাহে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর চূড়ান্ত প্রত্যাহারের আগেই তালেবানরা আফগানিস্তানজুড়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, কিন্তু পাঞ্জশির দখল করতে পারেনি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করার সময়ও তালেবানরা এই উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি।

তালেবান মুখপাত্র বিলাল করিমি বলেন, খিনজ এবং উনাবা জেলাও দখল করা হয়েছে। ফলে প্রদেশটির ৭টি জেলার চারটির নিয়ন্ত্রণই এখন তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে।

টুইটারে তিনি বলেন, “মুজাহিদিনরা (তালেবান যোদ্ধারা) প্রদেশটির কেন্দ্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে”।

কিন্তু আফগানিস্তানের ন্যাশনাল রেজিস্টেন্স ফ্রন্ট তথা স্থানীয় নেতা আহমদ মাসউদের অনুগত বাহিনী বলছে, তারা খাওয়াক পাসে “হাজার হাজার সন্ত্রাসীদের” ঘিরে রেখেছে এবং তালেবানরা দশতে রেওয়াক এলাকায় যানবাহন ও যুদ্ধ সরঞ্জাম ফেলে চলে গেছে।

ফ্রন্টের মুখপাত্র ফাহিম দাশতি বলেছেন, “ভারী সংঘর্ষ” চলছে।

এক ফেসবুক পোস্টে আহমেদ মাসুদ জোর দিয়ে বলেছেন যে, পাঞ্জশির “দৃঢ় ভাবে দাঁড়িয়ে আছে”। নারী অধিকার নিয়ে বিক্ষোভকারীদের “আমাদের সম্মানিত বোন” বলে প্রশংসা করে তিনি বলেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরে অধিকারের দাবিতে নারীদের বিক্ষোভ দেখিয়ে দিয়েছে যে, আফগানরা ন্যায়বিচারের দাবি ছেড়ে দেয়নি এবং “তারা কোনো হুমকির ভয় পায় না”।

ইতালির চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ইমার্জেন্সি জানিয়েছে, তালেবান বাহিনী শুক্রবার রাতে পাঞ্জশির উপত্যকার আরো ভেতরে ঢুকে আনাবাহ গ্রামে পৌঁছেছে, যেখানে তাসের চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে।

তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা আনাবা সার্জিক্যাল সেন্টারে অল্প সংখ্যক আহত মানুষ পেয়েছি,”। সম্প্রতি অনেক লোক ওই এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে বলেও জানিয়েছে তারা।

শুধুমাত্র একটি সঙ্কীর্ণ প্রবেশদ্বার সহ চারদিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা পাঞ্জশিরে আসলে কী ঘটছে বার্তা সংস্থা র‍য়টার্সের পক্ষে তা আরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com