বৃহস্পতিবারও (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে সকাল ১০টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ। আর মারা গেছে এক হাজার ৭০০ জন।
স্কুল খুলে দেওয়ার পর থেকে শিশুদের আক্রান্তের হারও বাড়ছে দেশটিতে। অক্সিজেন আর শয্যা সংকটে দিন পার করা ভারতেও অব্যাহত আছে করোনার ধকল। ব্রাজিল, যুক্তরাজ্যেও সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী।
তুলনামূলক দরিদ্র দেশগুলোতে যাতে টিকা সংকটে পড়তে না হয় এ জন্য ধনী দেশগুলোকে আগামী ২০২২ সাল পর্যন্ত তৃতীয় ডোজ পরিকল্পনা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
এদিকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে স্নায়ুর কার্যকারিতা নষ্টের আশঙ্কা করছে ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি (ইএমএ)।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে টিকাকর্মসূচির আওতায় এসেছে অধিকাংশ দেশ। একদিকে, ধনী দেশগুলো দ্বিতীয় ডোজের পর বুস্টার ডোজ দিতে শুরু করেছে যেখানে অনেক দরিদ্র দেশই দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করতে পারেনি। পর্যাপ্ত টিকার অভাবেও সংক্রমণের হার বাড়ছে বিভিন্ন দেশে।
এমন অবস্থায় টিকাবৈষম্য দূর করতে আবারও ২০২২ সাল পর্যন্ত ধনী দেশগুলোকে বুস্টার ডোজ আপাতত বন্ধ রাখার আহ্বান করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। একই সঙ্গে এ বছরের মধ্যেই দরিদ্র দেশগুলোর অন্তত ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
টিকা বৈষম্য দূর করতে বুস্টার ডোজ আপাতত বন্ধের পাশাপাশি দরিদ্র দেশগুলোতে সহায়তা অব্যাহত থাকতে হবে। এ বছরেই দরিদ্র দেশগুলোর ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার আশা রাখছি।
ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্বে গতকালের তুলনায় করোনায় সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। এ সময় মারা গেছেন আরও ৯ হাজার ৭০৮ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৮ জন।
এ নিয়ে বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মৃত্যু ৪৬ লাখ ৮ হাজার ৭৩১ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ২২ কোটি ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার ২৪২ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৩ হাজার ৬৯২ জন।
করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৪ কোটি ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ৭১ হাজার ১৮৭ জনের।