শুক্রবার, ১৭ Jul ২০২৬, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
২০১৩ সালের পর এতো বৃষ্টি দেখেনি ভারতের উত্তরাখণ্ডের মানুষ। মঙ্গলবার ৪শ মিলিমিটার বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পুরো রাজ্য। রোববার থেকে টানা বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস। রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে, সেতু ধসে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তরাখন্ডের ছবি ও ভিডিওতে প্লাবিত সড়ক, ডুবে যাওয়া বাড়িঘর ও ভেঙে পড়া সেতু দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলের এই রাজ্য একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। জলবায়ু পরিবর্তন ও ব্যাপক অবকাঠামো নির্মাণের প্রভাবেই রাজ্যটিতে এমন বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
বন্যা আর ভূমিধসে ঘটছে হতাহতের ঘটনা। ধ্বংসস্তূপে অনেকেই আটকা পড়েছেন বলে শঙ্কা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিহতদের পরিবারকে ৪ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি।
পুষ্কর সিং ধামি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। বেশকিছু জায়গায় অনেকেই আটকা পড়েছেন। কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। সবার সুরক্ষা নিশ্চিতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এ বছর রাজ্য দুটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কেরালায় সাধারণত এ সময় ১৯২ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়ে থাকে। সে তুলনায় এবার রাজ্যটিতে বৃষ্টি হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার।
উত্তরাখন্ডে অক্টোবরে সাধারণত ৩০ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যটিতে ১২২ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তারা অবশ্য গতকাল মঙ্গলবার থেকেই বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন।
এদিকে উদ্ধার অভিযানে কাজ করছে রাজ্য ও জাতীয় দুর্যোগ বাহিনী। পরিস্থিতি বিবেচনায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনীর ৩টি হেলিকপ্টার। ভূমিধসের পর রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র নৈনিতালের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নৈনিতাল ও কেদারনাথে আটকা পড়েছে অনেক পর্যটক।
আরব সাগরে নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টি-বন্যায় বিপর্যস্ত কেরালাও। অনেকে এখনও নিখোঁজ। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে কাজ করছে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী।
ভারতীয় দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমসকে উত্তরাখন্ডের আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের পরিচালক বিক্রম সিং বলেন, অল্প কয়েক দিনে অতিরিক্ত বৃষ্টি স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, সম্ভবত অনেক স্থানে মেঘলা বিস্ফোরণ ও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অনেক এলাকায় আবহাওয়া কেন্দ্র না থাকার কারণে তা রেকর্ড করা যায়নি।
নিম্নচাপের কারণে, রোববার থেকে ভারতজুড়ে শুরু হয়েছে ভারি বৃষ্টি। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দিল্লিসহ ১০ রাজ্যে।