বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন
বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে ভারত-রাশিয়া শীর্ষ ২১ তম বার্ষিক সামিটে অংশ নিতে আজ (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় দিল্লি পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে করোনার নতুন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগের মধ্যেই এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারতে মাত্র ৬-৭ ঘণ্টা থাকবেন পুতিন। এরইমধ্যে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন স্তরে আলাপ আলোচনা হবে। এরইমধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রুশ প্রেডিডেন্ট পুতিনের মধ্যে ২১ তম পর্বের ভারত-রাশিয়া শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হবে।
বৈঠকে আফগানিস্তান-করোনাসহ নানা ইস্যুতে আলোচনা করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। ঝটিকা সফর হলেও তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা। এদিকে, ইউক্রেন ইস্যুতে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে টেলি-কনফেরেন্স করবেন পুতিন।
এতে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিসহ ১০টি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনা হতে পারে আফগানিস্তানসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে। এছাড়াও পুতিন ও মোদির বৈঠকে একে-২০৩ অ্যাসল্ট রাইফেলের যৌথ উৎপাদন চুক্তিতে স্বাক্ষর হবে। তাদের মধ্যে এস ৪০০ মিসাইল সিস্টেম নিয়েও কথা হবে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে রুশ বিদেশমন্ত্রী সার্গেই লাভেরভ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সারগেই শেরগিউ পুতিনের একদিন আগেই ভারতে এসেছেন। ৬ ডিসেম্বর ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে আরো এক দফা প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৈন্য ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও আন্তঃসরকারি গোষ্ঠীর বৈঠকে সামিল হবেন।
সেইসঙ্গে ওই সময় দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীদের মধ্যেও সমান্তরাল বৈঠক হবে। এরপর দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও বিদেশমন্ত্রীদের ২ প্লাস ২ আলোচনার টেবিলে অংশদারিত্বের পরিকল্পনা বৃদ্ধির অগ্রগতি নিয়ে কথা হবে।
এ বিষয়ে রাজনীতি বিশ্লেষক আলেক্সান্ডার গ্যাবুভ বলেন, “চীনের সঙ্গে রাশিয়ার অংশীদারিত্ব বাড়ছে। তাই এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে মস্কোর প্রভাব বিস্তার জরুরি হয়ে পড়েছে। ভারতের সাথেও রাশিয়ার সম্পর্ক কয়েক দশকের। তাই দুই নেতার বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাশিয়ার কাছে এখন চীনা নীতির চেয়ে এশিয়া নীতি গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক দিল্লির ওপর প্রভাব ফেলবে না। সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে চায় মস্কো।
এই রাজনীতি বিশ্লেষক আরো বলেন, “চীনকে রুখতে ভারতের প্রয়োজন এস/ফোর/জিরো/জিরো-র মতো মিসাইল সিস্টেম। ফলে এই সফরেই ভারতের হাতে অত্যাধুনিক এই মিসাইল সিস্টেম তুলে দিতে পারেন পুতিন। এছাড়া, আরো বেশকটি সামরিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও আছে।”
মোদি-পুতিনের বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের মধ্যেও আলোচনার কথা রয়েছে। পুতিন এমন সময় ভারত সফর করছেন যখন ইউক্রেন সীমান্তে সেনা মোতায়েন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা বাড়ছে। মঙ্গলবার এ নিয়ে একান্তে আলাপ করবেন দুজন।
আলেক্সান্ডার গ্যাবুভ জানান, “ইউক্রেনসহ নানা ইস্যুতে পশ্চিমাবিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার কাঠামোগত দ্বন্দ্ব, আর এর মধ্যে ভারতে সেদেশের প্রেসিডেন্টের সফর বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও মস্কো সম্পর্কের স্থিতিশীলতা চাইলেও, বোঝা যাচ্ছে না পরিণতি কোন দিকে গড়াচ্ছে।”
করোনার কারণে ইতালির রোমে জি-টুয়েন্টি ও স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কপ-টুয়েন্টি সিক্স সম্মেলনে সশরীরে যোগ দেননি ভ্লাদিমির পুতিন। তবে জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে জেনেভা সফর করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, ২০১৯ সালের নভেম্বরে ব্রাসিলিয়ায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের পর এই প্রথম বৈঠকে মুখোমুখি হবেন মোদি ও পুতিন। এর আগে ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে এসেছিলেন পুতিন।