বুধবার, ২৯ Jul ২০২৬, ০১:৪১ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : দূর থেকে দেখলে মনে হবে দাঁড়ানো একজন লোক। হাত আছে, পা আছে, গায়ে জামাও আছে। কাছে গেলে টের পাওয়া যাবে আসল রহস্য।
দেখা যাবে, মাটির হাড়ির পেছনে কাঁচা হাতে আঁকা চোখ, মুখ ও নাক; হাড়িটি ব্যবহৃত হচ্ছে মাথা হিসেবে। পুরো শরীরের আকার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সবল মানুষের মতো। নাম তার কাকতাড়ুয়া।
আবহমান গ্রাম বাংলায় খেতের ফসল পাখি, ইঁদুরসহ ফসল খেকো প্রাণীর উপদ্রুব থেকে রক্ষার কৌশল হিসেবে অদ্ভুত এ পদ্ধতি। কৃষকরা আদিকাল থেকে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে আসছে। গ্রামীণ জনপদে ফসলের খেতে অতি পরিচিত দৃশ্য এই কাকতাড়ুয়া। যেন ফসলি মাঠ রক্ষা করার জন্য দাঁড়িয়ে আছে একজন সার্বক্ষণিক প্রহরি।
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় শুকনো মৌসুমে বেগুন, শসা, মরিচ, আলু, পেঁয়াজ, টমেটো ও সবজি জাতীয় ফসলের খেতে কাকতাড়ুয়া বেশি দেখা যায়।
প্রযুক্তির যুগে চাষাবাদে যন্ত্রপাতি ব্যবহার হলেও খেতের ফসল রক্ষায় সনাতন পদ্ধতির কাকতাড়ুয়ার ব্যবহার পাল্টায়নি। কাকতাড়ুয়া স্থান পেয়েছে গল্প, কবিতা, নাটক, সিনেমায়। কাকতাড়ুয়া এই আধুনিক সমাজে বইয়ের প্রচ্ছদেও স্থান পেয়েছে চিত্রশিল্পীর তুলি আঁচড়ে।
কথা হয় জুড়ী উপজেলার বাছিরপুর এলাকার কৃষক ইসলাম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন প্রাণী ফসলের খেতে আসে। কিন্তু কাকতাড়ুয়া দেখে মানুষ ভেবে্ এ সব প্রাণী খেত থেকে দূরে থাকে।
নগরকন্ঠ.কম/এআর